ঢাকা   বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

টাকা তোলেননি ৭১% গ্রাহক, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে বাড়ছে নতুন আমানত

অর্থ ও বাণিজ্য

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:৩৪, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাকা তোলেননি ৭১% গ্রাহক, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে বাড়ছে নতুন আমানত

দীর্ঘদিন আটকে থাকা আমানত ফেরত পাওয়ার সুযোগ মিললেও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে তা উত্তোলনে গ্রাহকদের মধ্যে বড় ধরনের চাপ দেখা যায়নি। ১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফেরতের আবেদন করা গ্রাহকদের প্রায় ৭১ শতাংশ এখনো টাকা তোলেননি। একই সময়ে ব্যাংকটিতে নতুন আমানতও জমা হচ্ছে, যা আমানতকারীদের আস্থা ফেরার একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৭৭ জন গ্রাহক ৫ হাজার ৫১১ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করেন। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ৯০৭ জন গ্রাহক ১ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। সে হিসাবে আবেদনকারীদের মধ্যে প্রায় ৭১ শতাংশ এখনো তাঁদের আমানত তোলেননি।

আমানত উত্তোলনের সুযোগ চালুর পর প্রথম দিকে গ্রাহকদের আগ্রহ তুলনামূলক বেশি থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা কমে আসে। ১ সেপ্টেম্বর ১৮ হাজার ৪৬ জন গ্রাহক ১ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করেন। তাঁদের মধ্যে ৭ সেপ্টেম্বর ৮ হাজার ১২৫ জন ৩১৯ কোটি টাকা উত্তোলন করেন। একইভাবে, ২ সেপ্টেম্বর ১৯ হাজার ৬১৩ জন গ্রাহক ১ হাজার ১৬ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করেন। তাঁদের মধ্যে ৮ সেপ্টেম্বর ৭ হাজার ২৩৪ জন ৩৪০ কোটি টাকা তোলেন।

পরবর্তী দুই দিনে গ্রাহকেরা যথাক্রমে ৩৮১ কোটি ও ৩৯১ কোটি টাকা উত্তোলন করেন।

অন্যদিকে, ব্যাংকটিতে নতুন আমানতের প্রবাহও অব্যাহত রয়েছে। ৭ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর—এই চার দিনে নতুন করে ৮৯৪ কোটি টাকা জমা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ সেপ্টেম্বর ১৪১ কোটি, ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৫ কোটি, ৯ সেপ্টেম্বর ২৪৪ কোটি এবং ১০ সেপ্টেম্বর ৩১৪ কোটি টাকা জমা হয়।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবেদুর রহমান সিকদার কালের কণ্ঠকে বলেন, আবেদন করার পরও গ্রাহকদের একটি বড় অংশ টাকা তুলছেন না। শাখা থেকে ফোন করা হলে অনেকে পরে টাকা না তোলার কথা জানাচ্ছেন। তাঁর মতে, এতে ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ফেরার বিষয়টি প্রতিফলিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ব্যাংকের অর্থপ্রবাহ ও লেনদেনও প্রায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। নগদ লেনদেনের পাশাপাশি আরটিজিএস, বিএফটিএন ও ক্লিয়ারিং কার্যক্রমও চালু হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আমানতকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। আপাতত আমানত উত্তোলনের চাপ কম থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া ব্যবস্থাপনার ওপরও চাপ হ্রাস পেয়েছে।

এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। আমানত ফেরত দেওয়ার জন্য ব্যাংকটিকে ৫ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তারল্য সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শুরুতে আমানতের ওপর ‘হেয়ারকাট’ আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরে তা বাতিল করা হয়। এরপর ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়।

তবে আমানত উত্তোলনের চাপ কম থাকাকে এখনই স্থায়ী আস্থার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন না খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, নতুন ব্যাংকটির সামনে এখনো বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। পাঁচ ব্যাংকের প্রায় ১৬ হাজার জনবল, ৭৫৯টি শাখা ও প্রায় ৭০০ উপশাখার পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় কমানো এবং কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়ানো জরুরি।

এর মধ্যে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ খেলাপি ঋণ। গত জুন শেষে একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। ফলে আমানতকারীদের আস্থা ধরে রাখার পাশাপাশি খেলাপি ঋণ আদায়, অনিয়ম বন্ধ এবং সুশাসন নিশ্চিত করাও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।