ঢাকা   মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩

ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও শেয়ার লেনদেনে বিএসইসির অনুসন্ধান

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৪৩, ১৮ আগস্ট ২০২৬

ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও শেয়ার লেনদেনে বিএসইসির অনুসন্ধান

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ, শেয়ারবাজারে লেনদেন, আর্থিক কার্যক্রম, স্বার্থের সংঘাত এবং নিয়ন্ত্রকীয় দায়িত্ব পালনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ডিএসইর কাছে বিপুলসংখ্যক নথি, তথ্য ও লিখিত ব্যাখ্যা চেয়েছে কমিশন।

এ বিষয়ে গত ১৬ আগস্ট ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বিএসইসি। চিঠিতে আগামী ২৩ আগস্টের মধ্যে চাওয়া তথ্য ও নথিপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিএসইসি জানিয়েছে, গত ১০ আগস্ট জারি করা অনুসন্ধান আদেশের মাধ্যমে ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ডিএসইর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথি ও ব্যাখ্যা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিশেষ নজর

অনুসন্ধানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে ডিএসইর নিয়োগ প্রক্রিয়াকে গুরুত্ব দিয়েছে বিএসইসি। জানুয়ারি ২০২৪ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সহকারী মহাব্যবস্থাপক এবং তার ওপরের পর্যায়ের সব নিয়োগের পূর্ণাঙ্গ নথি চাওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, প্রার্থীদের আবেদনপত্র, সাক্ষাৎকার বোর্ড গঠনের তথ্য, মূল্যায়ন বা মেধাতালিকা এবং নিয়োগ অনুমোদনের নথি। একই সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক ও পরামর্শক নিয়োগের কাগজপত্রও চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া গত তিন বছরে ডিএসইর অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও কমপ্লায়েন্স বিভাগের করপোরেট সুশাসন, নিয়োগ এবং মানবসম্পদসংক্রান্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

শীর্ষ কর্মকর্তাদের শেয়ার লেনদেনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তা ও সার্ভেইলেন্স বিভাগের কর্মীদের শেয়ারবাজারে লেনদেনও অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে। এ জন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের নাম, পদবি, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং তাদের নামে থাকা বিও হিসাবের তথ্য চেয়েছে বিএসইসি।

ডিএসইর কাছে তথ্য থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের বিও হিসাবের তথ্যও দিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া ১ জানুয়ারি ২০১৩ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সার্ভেইলেন্স বিভাগের কর্মকর্তা, ক্যাজুয়াল কর্মী ও সহায়ক কর্মীদের নাম, পদবি, যোগদানের তারিখ, চাকরির মেয়াদ, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, টিআইএন এবং বিও হিসাবের তথ্য চেয়েছে কমিশন।

গত দুই বছরে এসব কর্মকর্তার দাখিল করা শেয়ার বা সিকিউরিটিজ ধারণ ও লেনদেনসংক্রান্ত ঘোষণার অনুলিপিও চাওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত লেনদেনে পূর্বানুমোদন নেওয়া হয়ে থাকলে তার রেকর্ড এবং স্বার্থের সংঘাতসংক্রান্ত ঘোষণাপত্রও দিতে বলা হয়েছে।

বোর্ড ও বিভিন্ন কমিটির কার্যক্রমও অনুসন্ধানে

ডিএসইর আচরণবিধি, স্বার্থের সংঘাতসংক্রান্ত নীতি, অভ্যন্তরীণ তথ্যের ভিত্তিতে লেনদেনসংক্রান্ত নীতি এবং কর্মকর্তাদের ঘোষিত স্বার্থ নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ বা ব্যবস্থাপনার নেওয়া সিদ্ধান্তের নথিও চেয়েছে বিএসইসি।

পাশাপাশি আরএসি, আরএডি এবং মনোনয়ন ও পারিশ্রমিক কমিটির কার্যপরিধি, বর্তমান সদস্যদের তালিকা এবং জানুয়ারি ২০২৪ থেকে অনুষ্ঠিত সভার কার্যবিবরণী ও সিদ্ধান্ত চাওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে চুক্তিভিত্তিক পদ, পরামর্শক এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগের নথির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

চাওয়া হয়েছে পুরোনো আর্থিক ও সাংগঠনিক নথিও

প্রাথমিক পর্যায়ে শেয়ারহোল্ডার সদস্য ১৪১-এর উত্থাপিত নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে ডিএসইর লিখিত জবাব চেয়েছে বিএসইসি। পাশাপাশি ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, ব্যবস্থাপনা চিঠি এবং অভ্যন্তরীণ ও বহিঃনিরীক্ষা প্রতিবেদনও চাওয়া হয়েছে।

জানুয়ারি ২০২০ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ডিএসইর সব পরিচালনা পর্ষদ সভার কার্যবিবরণী এবং পাঁচ বছর আগের ও বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোর তথ্যও দিতে বলা হয়েছে। এই সময়ে কাঠামোয় কোনো পরিবর্তন হলে তার বিস্তারিত বিবরণ জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া ডিএসইর অভ্যন্তরীণ গোপনীয়তা নীতি, শীর্ষ কর্মকর্তাদের গোপনীয়তা রক্ষার অঙ্গীকারনামা, হুইসেলব্লোয়ার বা অভিযোগ নিষ্পত্তি নীতি এবং গত দুই বছরে পাওয়া অভিযোগের তথ্যও চেয়েছে কমিশন।

নথি পরিবর্তন বা মুছে ফেলতে নিষেধ

অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট সব নথি ও ই-মেইল যোগাযোগ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি। অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব রেকর্ড পরিবর্তন, মুছে ফেলা বা ওভাররাইট না করতেও বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে অনুসন্ধান ও তথ্য চাওয়ার পুরো বিষয়টি কঠোরভাবে গোপন রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিন সদস্যের কমিটি

বিএসইসির গঠিত তিন সদস্যের অনুসন্ধান কমিটিতে রয়েছেন কমিশনের পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা এএসএম মাহমুদুল হাসান, অতিরিক্ত পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামসুর রহমান এবং সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান।

কমিশন জানিয়েছে, অনুসন্ধানের প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে ডিএসইর কাছে অতিরিক্ত নথি বা ব্যাখ্যা চাওয়া হতে পারে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশও দেওয়া হতে পারে।