উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের শীর্ষ পর্যায়ে একসঙ্গে চারজনের পদত্যাগের পর প্রতিষ্ঠানটিতে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সাবেক পরিচালক মোস্তাকুর রহমানকে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কারা সরে গেলেন?
প্রশাসক নিয়োগের আগে উত্তরা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এবং দুজন স্বতন্ত্র পরিচালক একই সময়ে পদ ছেড়ে দেন। শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় এমন একযোগে পরিবর্তন আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. মুখতার হোসেন। তিনি আগে এনআরবিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আরও পদত্যাগ করেছেন উত্তরা ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওয়ালি উল্লাহ এবং দুই স্বতন্ত্র পরিচালক মো. নিয়ামুল কবির ও মো. রফিকুল ইসলাম এফসিএস।
কার কী পরিচয়?
মো. নিয়ামুল কবির আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ছিলেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব থেকে অবসরের পর তিনি উত্তরা ফাইন্যান্সের স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন।
অন্যদিকে মো. মুখতার হোসেন এনআরবিসি ব্যাংকের এমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা নিয়ে উত্তরা ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রশাসক নিয়োগ?
একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, এমডি ও দুই স্বতন্ত্র পরিচালক একই সময়ে পদত্যাগ করলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রশাসক নিয়োগের অর্থ হলো, এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনোনীত ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে সরাসরি তদারকির ভূমিকা পালন করবেন।
সহজ উদাহরণে বলা যায়, কোনো প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একাধিক ব্যক্তি একসঙ্গে সরে গেলে প্রতিষ্ঠানটি যেন নেতৃত্বশূন্য হয়ে না পড়ে, সে জন্য বাইরে থেকে একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে এনে পরিচালনার ভার দেওয়া হয়। উত্তরা ফাইন্যান্সে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়টিও সেই প্রক্রিয়ার অংশ।
তবে শীর্ষ পর্যায়ের চার কর্মকর্তার একযোগে পদত্যাগের পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ কী এবং প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক পরিস্থিতিতে এর কোনো প্রভাব রয়েছে কি না, তা বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ফলে প্রশাসক নিয়োগের পর এখন উত্তরা ফাইন্যান্সের পরিচালনা, আর্থিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।
























