ঢাকা   মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩

মুনাফায় ফিরেও ৭ মিউচুয়াল ফান্ডে ডিভিডেন্ড নেই

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৩৮, ১৮ আগস্ট ২০২৬

মুনাফায় ফিরেও ৭ মিউচুয়াল ফান্ডে ডিভিডেন্ড নেই

শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়ানোর সুবাদে মুনাফায় ফিরেছে আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের (আইসিবি এএমসিএল) ব্যবস্থাপনায় থাকা অধিকাংশ মিউচুয়াল ফান্ড। তবে আগের বছরের লোকসানের ধাক্কায় সঞ্চিত আয় এখনো নেতিবাচক থাকায় সাতটি ফান্ড এবারও কোনো ডিভিডেন্ড দিতে পারছে না। ফলে টানা তৃতীয় বছরের মতো এসব ফান্ডের ইউনিটহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড ছাড়াই থাকতে হচ্ছে।

রোববার অনুষ্ঠিত ট্রাস্টি কমিটির সভায় সাতটি ফান্ডের ডিভিডেন্ড শূন্য ঘোষণা করা হয়। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরে ফান্ডগুলো মুনাফা করলেও সেই মুনাফা থেকে ইউনিটহোল্ডারদের কোনো নগদ ডিভিডেন্ড দেওয়া হবে না।

আইসিবি এএমসিএলের কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শেয়ারবাজারে অস্থিরতার কারণে ফান্ডগুলোর আয় কমে যায়। কয়েকটি ফান্ডকে লোকসানও গুনতে হয়। চলতি অর্থবছরে বাজারের পুনরুদ্ধারের সঙ্গে অধিকাংশ ফান্ড মুনাফায় ফিরলেও আগের লোকসান সমন্বয়ের পরও সঞ্চিত আয় নেতিবাচক রয়েছে। এ কারণে বিধি অনুযায়ী ডিভিডেন্ড দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়নি।

তবে এর ব্যতিক্রম হয়েছে আইসিবি এএমসিএল ফার্স্ট অগ্রণী ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ডে। ফান্ডটি চলতি অর্থবছরে ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৩৫ পয়সা মুনাফা করেছে। আগের অর্থবছরে যেখানে ইউনিটপ্রতি মুনাফা ছিল মাত্র ৩৬ পয়সা। সঞ্চিত আয় ইতিবাচক থাকায় ফান্ডটি ৪ শতাংশ ডিভিডেন্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় নির্বাচন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাসহ বিভিন্ন কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের শেয়ারবাজারে চাপ ছিল। তবে অর্থবছরের শেষ দিকে বাজারে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার দেখা যায়। এতে ফান্ডগুলোর আয়ও বাড়ে। কিন্তু বাজারমূল্য বৃদ্ধির কারণে তৈরি হওয়া মূলধনী মুনাফার একটি বড় অংশ এখনো অবাস্তবায়িত থাকায় তা পর্যাপ্ত নগদ প্রবাহে রূপ নেয়নি।

এদিকে সাতটি ফান্ডের ডিভিডেন্ড শূন্য ঘোষণার পর বাজারে তাদের ইউনিটে বিক্রির চাপ বেড়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, ঘোষণার পর এসব ফান্ডের ইউনিটের দাম প্রায় ৪ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

অধিকাংশ ফান্ডেই বড় মুনাফা

আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট অর্থবছরভিত্তিক পরিচালিত ১০টি ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে আটটির আর্থিক বিবরণী অনুমোদন করেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আগের অর্থবছরে মাত্র একটি ফান্ড মুনাফা করলেও চলতি অর্থবছরে অধিকাংশ ফান্ডই উল্লেখযোগ্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

৫০ কোটি টাকা আকারের আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড চলতি অর্থবছরে ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৪৭ পয়সা মুনাফা করেছে। আগের অর্থবছরে ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি লোকসান ছিল ১৫ পয়সা।

৭৫ কোটি টাকা আকারের আইসিবি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ১২ পয়সা মুনাফা করেছে। আগের অর্থবছরে ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি লোকসান ছিল ২৩ পয়সা।

প্রাইম ব্যাংক ১ম আইসিবি এএমসিএল মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ১৭ পয়সা মুনাফা করেছে। ফিনিক্স ফাইন্যান্স ১ম মিউচুয়াল ফান্ড এবং আইসিবি এএমসিএল থার্ড এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড যথাক্রমে ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৬৪ পয়সা ও ১ টাকা ৪০ পয়সা মুনাফা করেছে।

এ ছাড়া আইএফআইএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড-১ ইউনিটপ্রতি ৯৬ পয়সা এবং আইসিবি এএমসিএল সোনালী ব্যাংক ১ম মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ১২ পয়সা মুনাফা করেছে।

বাজার পুনরুদ্ধারের প্রভাব

ফান্ডগুলোর মুনাফা বাড়ার পেছনে শেয়ারবাজারের সামগ্রিক পুনরুদ্ধারকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০২৬ অর্থবছরে ডিএসইএক্স প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৭৬২ পয়েন্টে দাঁড়ায়। অর্থবছরজুড়ে সূচকটি বাড়ে ৯২৪ পয়েন্ট।

একই সময়ে ডিএস৩০ সূচক প্রায় ২০ শতাংশ বা ৩৬৩ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৭৮ পয়েন্টে ওঠে। দেশের মোট বাজার মূলধনও ৩৬ হাজার ৪২১ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৬ লাখ ৯৮ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ায়।

বর্তমানে আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট মোট ১৫টি মিউচুয়াল ফান্ড পরিচালনা করছে। এর মধ্যে ১০টি ক্লোজড-এন্ড এবং পাঁচটি ওপেন-এন্ড ফান্ড। অনুমোদিত আটটি ক্লোজড-এন্ড ফান্ডের সম্মিলিত আকার প্রায় ৮০৩ কোটি টাকা।

অর্থাৎ, বাজারের ঘুরে দাঁড়ানোর সুফলে ফান্ডগুলোর আয় বাড়লেও আগের লোকসানের বোঝা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। ফলে মুনাফা করেও সাতটি ফান্ডের বিনিয়োগকারীদের এবারও ডিভিডেন্ড পাওয়ার সুযোগ হচ্ছে না।