ঢাকা   বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩

বিএসইসির দুই বড় সিদ্ধান্ত, বাজার ব্যবস্থাপনায় নতুন অধ্যায়

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:০২, ২ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ

বিএসইসির দুই বড় সিদ্ধান্ত, বাজার ব্যবস্থাপনায় নতুন অধ্যায়

শেয়ারবাজারে বাজার ব্যবস্থাপনা ও মিউচুয়াল ফান্ড পরিচালনায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একদিকে বাজার নিয়ন্ত্রণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) আরও স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বে-মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক লভ্যাংশ বিতরণের বিধান শিথিল করে মুনাফা পুনঃবিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বুধবার কমিশনের ১০১৮তম জরুরি সভায় এ দুটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিএসইসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এখন থেকে ডিএসই ও সিএসই তাদের নিজস্ব প্রবিধান, নীতিমালা এবং বাজারের প্রয়োজন বিবেচনায় সার্কিট ব্রেকার সীমাসহ বাজার নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন মাপকাঠি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করতে পারবে। এর ফলে এ বিষয়ে ২০২১ সালের ১৭ জুন জারি করা কমিশনের আদেশ বাতিল করা হয়েছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি দুর্বল পারফরম্যান্সকারী কোম্পানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সার্কিট ব্রেকার সীমা অর্ধেকে নামিয়ে আনার প্রস্তাব বিএসইসির কাছে পাঠিয়েছিল ডিএসই। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ভবিষ্যতে বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী স্টক এক্সচেঞ্জগুলো আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে বাজার ব্যবস্থাপনায় এক্সচেঞ্জগুলোর দায়িত্ব ও জবাবদিহিতাও বাড়বে।

একই সভায় বিএসইসি বে-মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তন আনে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ট্রাস্টি চাইলে সম্পদ ব্যবস্থাপকের প্রস্তাবের ভিত্তিতে বিনিয়োগকারী ও শেয়ারবাজারের স্বার্থ বিবেচনায় অর্থবছর শেষে অর্জিত মুনাফা লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ না করে পুনঃবিনিয়োগ করতে পারবেন।

বর্তমানে ফিক্সড ইনকাম স্কিমের বে-মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডে কমপক্ষে ৭০ শতাংশ, গ্রোথ স্কিমে ৩০ শতাংশ এবং অন্যান্য বে-মেয়াদি ফান্ডে কমপক্ষে ৫০ শতাংশ মুনাফা লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এই বাধ্যবাধকতা কার্যত শিথিল হলো।

তবে বিএসইসির এ সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কও শুরু হয়েছে। ২০১৯ সালে সমালোচনার মুখে মিউচুয়াল ফান্ডে বোনাস ইউনিট বা রি-ইনভেস্টমেন্ট ইউনিট (আরআইইউ) পদ্ধতি বাতিল করে কেবল নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার বিধান চালু করেছিল কমিশন। এখন লভ্যাংশ না দিয়েই পুনঃবিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ায় অনেক বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এটিকে আগের ব্যবস্থার ভিন্ন রূপ হিসেবে দেখছেন।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বে-মেয়াদি ফান্ডগুলো চাইলে নগদ লভ্যাংশ না দিয়ে মুনাফা ফান্ডে রেখে সম্পদের পরিমাণ বাড়াতে পারবে। এতে নগদ লভ্যাংশের ওপর ১৫ শতাংশ কর পরিশোধের প্রয়োজন হবে না এবং দীর্ঘমেয়াদে ইউনিটধারীরা তাদের ইউনিট নগদায়নের সময় বেশি সম্পদমূল্যের সুবিধা পেতে পারেন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্টক এক্সচেঞ্জকে অধিক স্বাধীনতা প্রদান এবং মিউচুয়াল ফান্ডে পুনঃবিনিয়োগের সুযোগ—উভয় সিদ্ধান্তই দেশের পুঁজিবাজারে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে এসব সিদ্ধান্তের সুফল নির্ভর করবে বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা, সুশাসন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির ওপর।

সর্বশেষ