ঢাকা   বৃহস্পতিবার ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩

ডিএসইর সতর্কবার্তা: ৬২ তালিকাভুক্ত কোম্পানি ঝুঁকিতে, সতর্ক বিনিয়োগের আহ্বান

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৪০, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ

ডিএসইর সতর্কবার্তা: ৬২ তালিকাভুক্ত কোম্পানি ঝুঁকিতে, সতর্ক বিনিয়োগের আহ্বান

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৬২টি কোম্পানি সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। এর মধ্যে ৩২টি কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে, আর ৩০টি কোম্পানি আর্থিকভাবে উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ডিএসই সম্প্রতি তাদের ওয়েবসাইটে পৃথক দুটি তালিকা প্রকাশ করেছে।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা এবং আর্থিকভাবে দুর্বল কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগ করে যাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির মুখে না পড়েন, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে ‘রেড এলার্ট’ জারি করে বাজারে সতর্কতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কার্যক্রম বন্ধ থাকা কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের দামে অস্বাভাবিক উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। এরই মধ্যে শ্যামপুর সুগার মিলস ও সোনারগাঁও টেক্সটাইলসের শেয়ার লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানিগুলোর বিষয়ে প্রকাশ্যে সতর্কবার্তা দিয়েছে ডিএসই।

ডিএসইর প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বন্ধ কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাপোলো ইস্পাত, আরামিট সিমেন্ট, আজিজ পাইপস, বারাকা পাওয়ার, এমারেল্ড অয়েল, খুলনা পাওয়ার, মেঘনা পিইটি, নিউলাইন ক্লথিংস, নর্দার্ন জুট, প্রাইম টেক্সটাইলস, রহিমা ফুড, আরএসআরএম স্টিল, শ্যামপুর সুগার মিলস, উসমানিয়া গ্লাসসহ মোট ৩২টি প্রতিষ্ঠান।

তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, সতর্কসংকেত জারির পরও এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোর শেয়ারদর বৃদ্ধি পেয়েছে। সর্বশেষ লেনদেনে ৩২টি বন্ধ কোম্পানির মধ্যে ২২টির শেয়ারদর বেড়েছে, ৬টির কমেছে এবং ৪টির দর অপরিবর্তিত ছিল। এর মধ্যে হামিদ ফেব্রিকস, প্রাইম টেক্সটাইলস ও নিউলাইন ক্লথিংসের শেয়ারদর সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।

এদিকে গত ৪ জুন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মাসুদ খান। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বাজার কারসাজি দমন এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দেন।

বিএসইসির নির্দেশনার পর ডিএসই দুর্বল কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরের অস্বাভাবিক ওঠানামা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার লেনদেন স্থগিত করে মূল্যবৃদ্ধির কারণ তদন্তেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে নিরীক্ষকদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৪২টি কোম্পানিকে ‘গোয়িং কনসার্ন থ্রেট’ বা ব্যবসা পরিচালনায় অনিশ্চয়তার ঝুঁকিতে থাকা প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি কোম্পানি আবার বন্ধ প্রতিষ্ঠানের তালিকাতেও রয়েছে। ফলে কার্যত ৩০টি সক্রিয় কোম্পানিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ডিএসই।

ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে অলটেক্স, আনলিমা ইয়ার্ন, বিডি সার্ভিসেস, বিডিথাই ফুড, বিআইএফসি, সেন্ট্রাল ফার্মা, ঢাকা ডায়িং, ডরিন পাওয়ার, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, মেঘনা সিমেন্ট, প্রাইম ফাইন্যান্স, সানলাইফ ইনস্যুরেন্স, তাল্লু স্পিনিং এবং ঝিল বাংলা।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডিএসইর এই পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ করে যেসব কোম্পানির মৌলভিত্তি দুর্বল, আর্থিক প্রতিবেদন অনিয়মিত অথবা দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগের আগে বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

তাদের মতে, শুধুমাত্র শেয়ারদরের আকস্মিক উত্থান দেখে বিনিয়োগ না করে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, পরিচালন সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা যাচাই করেই বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

সর্বশেষ