দেশের ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল, সুশাসনভিত্তিক ও আস্থাপূর্ণ অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সরকার বহুমুখী ও যুগান্তকারী সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী Amir Khasru Mahmud Chowdhury। তিনি বলেছেন, সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন, আমানত সুরক্ষার সীমা বৃদ্ধি এবং খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা—সব মিলিয়ে ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য Lutfur Rahman-এর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।
জবাবে তিনি জানান, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সরকার একটি সুসংহত ও বহুমাত্রিক রেজল্যুশন কাঠামো গড়ে তুলেছে। এর আইনি ভিত্তি হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬’ কার্যকর করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় পাঁচটি সমস্যাপীড়িত ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে Sommilito Islami Bank PLC গঠন করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ‘আমানত সুরক্ষা আইন ২০২৬’ কার্যকর হওয়ার ফলে সুরক্ষিত আমানতের সীমা ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। আগে ফাইন্যান্স কোম্পানির আমানতকারীরা এ সুবিধার বাইরে থাকলেও এখন তাদেরও এই সুরক্ষার আওতায় আনা হয়েছে।
খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার ও Bangladesh Bank একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের শনাক্ত করতে বিআরপিডি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি খেলাপি ও ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া একজন ঋণগ্রহীতা পুরো ব্যাংকিং খাত থেকে সর্বোচ্চ কত টাকা ঋণ নিতে পারবেন, সে বিষয়েও সীমা নির্ধারণের কাজ চলছে। বড় অঙ্কের অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংকের ওপর চাপ কমাতে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণের জন্য বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, খেলাপি ঋণগ্রহীতারা যাতে উচ্চ আদালতে রিট করে ঋণ আদায় কার্যক্রম স্থগিত করতে না পারেন, সে লক্ষ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে অর্থ ঋণ আদালতের কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে বিচারক প্যানেল বা জুরি বোর্ডে অভিজ্ঞ ব্যাংকারদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বেসরকারি খাতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি (এএমসি) গঠনের জন্য নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত ঋণ পরিশোধকারী ভালো গ্রাহকদের জন্য প্রণোদনা নীতিমালাও হালনাগাদ করা হচ্ছে।
বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থার মাধ্যমে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে প্রতিটি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ নগদ আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রতিটি ব্যাংকের শীর্ষ ২০ খেলাপি ঋণগ্রহীতার ঋণ আদায়ের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি, সেসব প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ মনিটরিং টিমও গঠন করা হয়েছে।
সবশেষে অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, শক্তিশালী আইনি কাঠামো, স্বচ্ছ রেজল্যুশন প্রক্রিয়া এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার সমন্বিত উদ্যোগ ব্যাংকিং খাতে আমানতকারী, বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
























