যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার খবরে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর থেকে নিজেদের কিছু জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) সামরিক বিমান সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে মঙ্গলবার এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যা দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের স্থায়ী অবসানের পথ তৈরি করতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবস্থানরত মার্কিন রিফুয়েলিং বিমানের প্রায় ২০ শতাংশ সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এসব বিমান ইসরায়েলের বাইরে স্থানান্তর করা হবে, নাকি ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে নেওয়া হবে—সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
ইসরায়েলের পরিবহনমন্ত্রী মিরি রেজেভ এর আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, বিমানগুলো ইসরায়েলি বিমানঘাঁটিতে স্থানান্তর করা হতে পারে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের ৭২টি রিফুয়েলিং বিমান মোতায়েন রয়েছে, যা বিমানবন্দরের পার্কিং সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক ব্যবহার করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিমানবন্দরে বিপুল সংখ্যক মার্কিন সামরিক বিমানের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই বেসামরিক বিমান চলাচলে চাপ সৃষ্টি করছে। এ নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এর আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়। পরবর্তীতে উভয় পক্ষ সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তির রূপরেখা ঘোষণা করে। আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলমান রয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, মার্কিন সামরিক বিমানের আংশিক প্রত্যাহার আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর এবং এর বাস্তবায়নের ওপরই মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করবে।
























