মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মীরা দেশটিতে যাওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত মেডিক্যাল সেন্টারগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রমও শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন ও তালিকাভুক্ত করার দায়িত্ব মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের। দেশটির নিজস্ব নীতিমালা ও যোগ্যতার শর্ত অনুসারেই এজেন্সিগুলোকে তালিকাভুক্ত করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মালয়েশিয়ার নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়। আলোচনার একপর্যায়ে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ কিছু শর্তে নমনীয়তা দেখায়। এরপর ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা দেশটির কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।
যেভাবে কর্মী নিয়োগ হবে
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং ২৫টি বেসরকারি এজেন্সিকে প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এর বাইরে আরও ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে কর্মী নিয়োগের কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগপ্রক্রিয়া কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হবে।
প্রথম ধাপ: মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নিজেদের উদ্যোগে দেশটির নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে কর্মীর চাহিদাপত্র সংগ্রহ করবে।
দ্বিতীয় ধাপ: চাহিদাপত্র সংগ্রহকারী এজেন্সি বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করে কর্মী নির্বাচন এবং নিয়োগের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
তৃতীয় ধাপ: কলিং ভিসা, ই-ভিসা ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বোয়েসেলসহ তালিকাভুক্ত ২৫টি প্রসেসিং এজেন্সি প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
চতুর্থ ধাপ: সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে বহির্গমন ছাড়পত্র নেবে। যে এজেন্সির নামে চাহিদাপত্র আসবে, সেই এজেন্সির নামেই ছাড়পত্র নেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে বোয়েসেলসহ তালিকাভুক্ত প্রসেসিং এজেন্সিগুলো অনাপত্তিপত্র দিতে পারবে।
১০ হাজার কর্মী বিনা খরচে নেওয়ার উদ্যোগ
মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে নেওয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতের জন্য এটিকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছে মন্ত্রণালয়।
সরকারের লক্ষ্য হলো, মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা। কর্মীরা যাতে সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পান, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এ জন্য দেশের আইন মেনে কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির আহ্বান জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যেসব সিদ্ধান্ত
মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিক্যাল সেন্টার চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এখনো চলমান। বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, মেডিক্যাল সেন্টার চূড়ান্ত করার বিষয়টি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার যৌথ দায়িত্ব।
মন্ত্রণালয় জানায়, বিদ্যমান মেডিক্যাল সেন্টারগুলোর পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসে মেডিক্যাল সেন্টারগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করবে। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।
তবে আপাতত মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত মেডিক্যাল সেন্টারগুলোর মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এসব মেডিক্যাল সেন্টার বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় থাকবে এবং স্থানীয় নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন কোনো মেডিক্যাল সেন্টার অনুমোদিত হলে তা সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের মতে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নিয়োগের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছতা এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষিত রাখাই সরকারের অগ্রাধিকার।
























