পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের জটিলতা কাটিয়ে অবশেষে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি দেশে আসছে। সব প্রস্তুতি ঠিক থাকলে রাশিয়া থেকে বিশেষ কার্গো উড়োজাহাজে আগামীকাল শুক্রবার দুপুরের মধ্যে জ্বালানির চালান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে। এরপর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে শনিবার বিশেষ ব্যবস্থায় তা পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে নেওয়া হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো জটিলতা দেখা দেয়নি। এর আগে বৃহস্পতিবারই জ্বালানি পৌঁছানোর কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ফ্লাইটটি বাতিল হয়। পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় আগের নির্ধারিত সূচি পিছিয়ে যায়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, অত্যন্ত সংবেদনশীল এই পারমাণবিক জ্বালানি বিশেষ কার্গো বিমানে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক রুটে বিমান চলাচলের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আগাম অনুমতিও প্রয়োজন হয়। এবার সেই অনুমতির জটিলতার কারণেই আগের ফ্লাইটটি বাতিল করতে হয়েছিল।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটম জানিয়েছে, রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য জ্বালানি সরবরাহ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিংয়ের জন্যও জ্বালানি আনা হবে। সব মিলিয়ে একাধিক চালানে এই জ্বালানি দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। বুধবার ১৬ মেগাপাসকেল উচ্চচাপে প্রেসার-অপারেটেড রিলিফ ভাল্ভের পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে রোসাটম।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ত্রুটি সংশোধনের পর মঙ্গলবার রাতে পরীক্ষা শুরু হয় এবং বুধবার সকালে তা সফলভাবে শেষ হয়। প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ—উভয় স্থান থেকেই পরীক্ষাটি পরিচালনা করা হয়। এ সময় নিয়ন্ত্রণ ভাল্ভের কার্যকারিতা, নিরাপত্তা ভাল্ভের প্রতিক্রিয়া, ভাল্ভের খোলা ও বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট অ্যালার্মসহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয় পরীক্ষা করা হয়।
অনুমোদিত পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা শর্ত মেনেই পুরো পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রোসাটম।
রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় রোসাটম ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন প্রকল্পটির দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
























