হলিউডপ্রেমীদের জন্য শুক্রবার হতে যাচ্ছে বিশেষ একটি দিন। আন্তর্জাতিক মুক্তির সঙ্গে একই দিনে ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাচ্ছে আলোচিত দুই সিনেমা—টম ক্রুজ অভিনীত আলেহান্দ্রো জি ইনারিতুর ‘ডিগার’ এবং জনপ্রিয় হরর ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘রেসিডেন্ট ইভিল’-এর নতুন কিস্তি।
দুই সিনেমার গল্প ও ঘরানা সম্পূর্ণ আলাদা। একটিতে টম ক্রুজকে দেখা যাবে তাঁর চেনা ইমেজের সম্পূর্ণ বিপরীত চরিত্রে। অন্যটি দর্শককে নিয়ে যাবে সংক্রমণ, দানব আর বেঁচে থাকার ভয়ংকর লড়াইয়ের মধ্যে।
‘ডিগার’: টম ক্রুজকে চিনতেই পারবেন না!
‘মিশন: ইম্পসিবল’ কিংবা ‘টপ গান’-এর সুদর্শন ও দুর্ধর্ষ নায়ক টম ক্রুজকে এবার পর্দায় দেখা যাবে সম্পূর্ণ অন্য চেহারায়। ধূসর-সাদা চুল, বড় ভুঁড়ি, মুখজুড়ে বয়সের ছাপ এবং অস্বাভাবিক শরীরী ভাষা—ট্রেলার প্রকাশের পর তাঁর এই রূপান্তর দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
দুবারের অস্কারজয়ী নির্মাতা আলেহান্দ্রো জি ইনারিতুর পরিচালনায় তৈরি ‘ডিগার’ মূলত ব্ল্যাক কমেডির আবহে নির্মিত। গল্পে টম ক্রুজ অভিনয় করেছেন ডিগার রকওয়েল নামের এক ক্ষমতাধর ধনকুবেরের চরিত্রে।
ডিগারের একটি প্রকল্পের কারণে গ্রিনল্যান্ডের বিশাল হিমবাহ সরে যেতে শুরু করে। শুরুতে ঘটনাটিকে তেমন গুরুত্ব না দিলেও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বৈশ্বিক সংকটে রূপ নেয়। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেন, এর প্রভাব ভয়াবহ জলবায়ু বিপর্যয় থেকে শুরু করে আরও বড় সংঘাতের কারণ হতে পারে।
কিন্তু ডিগারের ভাবনা পৃথিবীকে বাঁচানো নয়। বরং সংকটের মধ্যেই নিজেকে মানবজাতির ত্রাতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই হয়ে ওঠে তার মূল লক্ষ্য।
জলবায়ু সংকট, করপোরেট লোভ, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ—সবকিছুকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে গল্পে তুলে ধরেছেন ইনারিতু।
চরিত্রের জন্য আমূল বদল টম ক্রুজের
‘ডিগার’-এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ টম ক্রুজের অভিনয় ও রূপান্তর। চরিত্রটি বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পোশাক, মেকআপ, দাঁতের গঠন থেকে শুরু করে হাঁটার ধরন ও কণ্ঠস্বর—সবকিছু নিয়েই নির্মাতার সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি।
চার দশকের বেশি সময় ধরে অ্যাকশন তারকা হিসেবে পরিচিত ক্রুজ এবার সেই পরিচিত ইমেজ থেকে বেরিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন একজন মানুষকে পর্দায় হাজির করছেন।
পরিচালক ইনারিতুর ভাষ্য, দর্শক টম ক্রুজকে অসংখ্য ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাকশন দৃশ্যে দেখেছেন। তবে ‘ডিগার’-এ তাঁর অভিনয়ের ধরন সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আবার ফিরছে ‘রেসিডেন্ট ইভিল’
একই দিনে স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাচ্ছে আরেক আলোচিত সিনেমা ‘রেসিডেন্ট ইভিল’। ক্যাপকমের জনপ্রিয় ভিডিও গেম সিরিজ অবলম্বনে প্রায় দুই দশক আগে হলিউডে যাত্রা শুরু করেছিল এই ফ্র্যাঞ্চাইজি।
২০০২ সালে প্রথম সিনেমার পর একাধিক কিস্তি নির্মিত হয়। ২০২১ সালে ‘রেসিডেন্ট ইভিল: ওয়েলকাম টু র্যাকুন সিটি’ দিয়ে সিরিজটি নতুনভাবে শুরু করার চেষ্টা করা হয়। এবার আসছে দ্বিতীয় রিবুট, যা ফ্র্যাঞ্চাইজির অষ্টম সিনেমা।
জ্যাক ক্রেগারের পরিচালনায় নতুন সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন অস্টিন আব্রামস, জ্যাক চেরি, কলি রেইস ও পল ওয়াল্টারসহ আরও অনেকে।
এবার মূল লড়াই বেঁচে থাকার
নতুন ‘রেসিডেন্ট ইভিল’-এর গল্পে ব্রায়ান নামের এক মেডিক্যাল কুরিয়ার একটি সাধারণ ডেলিভারি করতে গিয়ে ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে যায়। প্রাণঘাতী সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি সামনে আসে ভয়ংকর সব দানবীয় প্রাণী।
ব্রায়ান কোনো প্রশিক্ষিত সৈনিক নয়, নেই বিশেষ কোনো ক্ষমতাও। তাই সীমিত অস্ত্র, বুদ্ধি এবং পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই তার বেঁচে থাকার প্রধান অবলম্বন।
পরিচালক জ্যাক ক্রেগার জানিয়েছেন, তিনি এমন একটি অভিজ্ঞতা তৈরি করতে চেয়েছেন, যাতে দর্শকদের মনে হয় তারা নিজেরাই ‘রেসিডেন্ট ইভিল’-এর জগতের ভেতরে ঢুকে পড়েছেন।
‘বারবারিয়ান’ দিয়ে হরর ঘরানায় আলোচনায় আসা ক্রেগারের পরবর্তী সিনেমা ‘ওয়েপনস’ও দর্শকদের মধ্যে সাড়া ফেলেছিল। এবার ‘রেসিডেন্ট ইভিল’-এর মাধ্যমে তিনি জনপ্রিয় ভিডিও গেমটির সারভাইভাল হরর আবহকে বড় পর্দায় নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
ফলে শুক্রবার থেকে ঢাকার দর্শকদের সামনে একই দিনে থাকছে দুই ভিন্ন স্বাদের সিনেমা—একদিকে অচেনা চেহারার টম ক্রুজের ব্যঙ্গাত্মক ও বৈশ্বিক সংকটের গল্প, অন্যদিকে সংক্রমণ ও দানবের বিরুদ্ধে এক সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই।
























