ঢাকা   বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

চীনের বিনিয়োগ বাড়ানো ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা চান রাষ্ট্রপতি

জাতীয়

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২০:৪৭, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

চীনের বিনিয়োগ বাড়ানো ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা চান রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে চীনের সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। সাক্ষাৎ শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় চীনের ভূমিকার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সংকটের সমাধান এবং টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চীনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ সময় তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যানবাহন, হালকা প্রকৌশল, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন খাতে চীনের বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরসহ বহুপক্ষীয় যোগাযোগ প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থে চীন ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত।

রাষ্ট্রপতি মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এ ছাড়া তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা আরও এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের অবদানের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও সুসংহত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ ও অর্থায়নের জন্য চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে জনগণের জন্য উন্মুক্ত জটিল রক্তের ক্যানসার চিকিৎসায় চীনের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সাফল্য কামনা করেন রাষ্ট্রপতি। বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁর অবদান বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে বলেও জানান তিনি।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিই ইউইন।

সর্বশেষ