ঢাকা   মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

নিম্ন আয়ের দেশের ঋণঝুঁকি মাপতে নতুন কাঠামো আনছে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ

অর্থ ও বাণিজ্য

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২০:৫৫, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

নিম্ন আয়ের দেশের ঋণঝুঁকি মাপতে নতুন কাঠামো আনছে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ

নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ঋণ পরিস্থিতি আরও নির্ভুলভাবে মূল্যায়ন এবং সম্ভাব্য ঋণসংকট আগেভাগে শনাক্ত করতে নতুন কাঠামো আনছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থা দুটির নির্বাহী পর্ষদে যৌথ ঋণ মূল্যায়ন কাঠামো সংস্কারের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে। নতুন পদ্ধতিতে অভ্যন্তরীণ ঋণ, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়কে আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া এবং বিভিন্ন দেশের ঋণের পরিমাণ ও উৎসে পরিবর্তন আসার প্রেক্ষাপটে এই সংস্কার আনা হচ্ছে। ২০১৭ সালের পর এবারই প্রথম যৌথভাবে ঋণ মূল্যায়নের কাঠামো পর্যালোচনা করেছে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বর্তমান কাঠামো দিয়ে ঋণসংকটের ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করা গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে ঋণের ধরন ও উৎসে যে পরিবর্তন এসেছে, তা আরও ভালোভাবে মূল্যায়নের সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ ঋণ বিশ্লেষণে আরও কঠোর পদ্ধতি অনুসরণের সুপারিশ করা হয়েছে।

নতুন কাঠামোয় কোনো দেশের ঋণ পরিশোধ ও দীর্ঘমেয়াদে ঋণের বোঝা বহনের সক্ষমতা আরও যথাযথভাবে পরিমাপ করা হবে। একই সঙ্গে উচ্চ ও নিম্ন ঝুঁকির দেশগুলোকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করার ব্যবস্থা থাকবে। যেসব দেশের ঋণ টেকসই নয় বলে বিবেচিত হবে, তাদেরও পৃথকভাবে শনাক্ত করা হবে।

ঋণের ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস কতটা নির্ভুল হচ্ছে, তা যাচাইয়ে আরও জোর দেওয়া হবে। এজন্য বিভিন্ন ধরনের ‘স্ট্রেস টেস্ট’ বা চাপের পরিস্থিতিতে অর্থনীতির সক্ষমতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হবে। এতে অর্থনৈতিক ধাক্কা এলে কোনো দেশের ঋণ পরিস্থিতি কতটা অবনতি হতে পারে, তা আরও ভালোভাবে বোঝা যাবে।

এ ছাড়া ঋণসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে দেশগুলোর স্বচ্ছতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে ঋণ মূল্যায়নে ব্যবহৃত ডিসকাউন্ট রেট ৫ শতাংশই রাখা হচ্ছে।

আইএমএফের আফ্রিকা বিভাগের উপপরিচালক অ্যালিসন হল্যান্ড বলেন, সংস্কারের মূল লক্ষ্য হলো ঋণের ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করা। এর ফলে অর্থায়ন ও নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে দেশগুলো আরও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

হল্যান্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের পর ঋণ পরিস্থিতিতে যে উন্নতি হয়েছিল, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ধাক্কায় তার বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিম্ন আয়ের দেশগুলোর প্রায় ১৪ শতাংশ বর্তমানে ঋণসংকটে রয়েছে। আরও ৩৩ শতাংশ দেশ উচ্চ ঋণঝুঁকিতে আছে। পাশাপাশি উদীয়মান বাজারগুলোর প্রায় ২৩ শতাংশ সরকারি ঋণ উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধে কার্যকর

ঋণ পরিস্থিতি মূল্যায়নের নতুন কাঠামো ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন পদ্ধতিতে দীর্ঘমেয়াদি ঋণঝুঁকি আরও বিস্তারিতভাবে পরিমাপের পাশাপাশি উন্নয়ন ও জলবায়ু অভিযোজনের জন্য একটি দেশের কতটা বিনিয়োগ সক্ষমতা রয়েছে, সেটিও মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

বর্তমানে ব্যবহৃত ঋণ মূল্যায়ন কাঠামোটি ২০০৫ সালে চালু করা হয়েছিল। জুলাইয়ে শেষ হওয়া সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই কাঠামো ঋণসংকটের ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করতে কার্যকর ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ঋণের পরিমাণ ও উৎসে পরিবর্তন আসায় নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিছু সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে অনেক নিম্ন আয়ের দেশ অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক—উভয় উৎস থেকেই বেশি ঋণ নিচ্ছে। এর একটি অংশ আবার বাণিজ্যিক শর্তে নেওয়া হচ্ছে। ফলে শুধু বৈদেশিক ঋণের ওপর ভিত্তি করে ঝুঁকি মূল্যায়ন করলে দেশের সামগ্রিক ঋণচিত্র পুরোপুরি ধরা পড়ে না।

আইএমএফের পর্যালোচনায় আরও উঠে এসেছে, স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি অর্থনৈতিক পূর্বাভাস সাধারণত নির্ভরযোগ্য হলেও দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি ও রাজস্বের পূর্বাভাসে কিছুটা অতিরিক্ত আশাবাদ দেখা গেছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ ও আর্থিক তথ্যের ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়েছে।

নতুন কাঠামোয় এসব সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি বিশ্লেষণের জন্য আলাদা একটি মডিউল রাখা হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে ঋণের স্থায়িত্ব ও ঝুঁকি আরও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিমাপ করা হবে।

তবে নতুন পদ্ধতিতে কোন পরিস্থিতিতে একটি দেশের ঋণকে ‘টেকসই নয়’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে, সেই মডেল এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। নতুন কাঠামোর সঙ্গে দেশগুলো ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য সময় দিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ