ঢাকা   মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

৬১ কোটি টাকার অগ্রিম নিয়ে অডিটরের আপত্তি, প্রমাণ দিতে পারেনি আমরা নেটওয়ার্কস

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৪৮, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

৬১ কোটি টাকার অগ্রিম নিয়ে অডিটরের আপত্তি, প্রমাণ দিতে পারেনি আমরা নেটওয়ার্কস

তথ্য-প্রমাণের ঘাটতির কারণে সরবরাহকারী ও অন্যান্য পক্ষকে দেওয়া ৬১ কোটি ১৬ লাখ টাকার অগ্রিম নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত আমরা নেটওয়ার্কস লিমিটেডের নিরীক্ষক। অগ্রিমের প্রকৃতি, শর্ত ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের জন্য পর্যাপ্ত নিরীক্ষা-প্রমাণ না পাওয়ায় এ বিষয়ে ‘কোয়ালিফায়েড ওপিনিয়ন’ দিয়েছেন নিরীক্ষক।

২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনে ‘অ্যাডভান্স টু সাপ্লায়ার্স অ্যান্ড আদার্স’ খাতে ৬১ কোটি ১৬ লাখ টাকা দেখিয়েছে আমরা নেটওয়ার্কস। আগের অর্থবছরে একই খাতে অগ্রিমের পরিমাণ ছিল ৩১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এ অগ্রিম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

কোম্পানিটির নিরীক্ষক কেএম হাসান অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের অংশীদার হেদায়েত উল্লাহ এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তার মতে, অগ্রিমের প্রকৃতি, বিষয়বস্তু, শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য সম্পর্কে পর্যাপ্ত ও যথাযথ নিরীক্ষা-প্রমাণ কোম্পানির কাছ থেকে পাওয়া যায়নি।

এ কারণে আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা অঙ্কে কোনো সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে কি না কিংবা অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করা দরকার কি না, তা নির্ধারণ করতে পারেননি নিরীক্ষক।

তবে নিরীক্ষকের এই আপত্তির অর্থ এই নয় যে ৬১ কোটি ১৬ লাখ টাকার অগ্রিমের অঙ্কটি ভুল বা অর্থটি আদায়যোগ্য নয়। পর্যাপ্ত নিরীক্ষা-প্রমাণ না থাকায় এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হতে পারেননি তিনি।

কোম্পানির ২০২৫ সালের জুন শেষে মোট চলতি অগ্রিম, আমানত ও প্রিপেমেন্টের পরিমাণ ছিল ৭৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ ছিল সরবরাহকারী ও অন্যান্য পক্ষকে দেওয়া অগ্রিম।

এ ছাড়া অগ্রিম আয়কর হিসেবে ১৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, অগ্রিম অফিস ভাড়া বাবদ ২ কোটি ৬১ লাখ টাকা এবং ব্যাংক গ্যারান্টি মার্জিন ও টেন্ডার সিকিউরিটি হিসেবে ৮৪ লাখ ৭১ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে।

ডেটা সেন্টার নিয়েও অডিটরের প্রশ্ন

শুধু অগ্রিম নয়, কোম্পানিটির মালিকানাধীন একটি ডেটা সেন্টার নিয়েও পৃথক আপত্তি জানিয়েছেন নিরীক্ষক।

আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আমরার হোল্ডিংস লিমিটেডের কাছ থেকে কোনো মূল্য পরিশোধ ছাড়াই ডেটা সেন্টারটি পুনরায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আমরা নেটওয়ার্কসের। ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী অর্থবছরে ডেটা সেন্টারটি পুনরায় নেওয়ার কথা রয়েছে।

এই কারণে ২০২৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনে ডেটা সেন্টারটিকে সম্পদ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেনি কোম্পানিটি।

তবে ডেটা সেন্টারটির বর্তমান অবস্থা, ন্যায্য মূল্য এবং ভবিষ্যতে এটি থেকে কী পরিমাণ অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া যেতে পারে—এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত নিরীক্ষা-প্রমাণ দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন নিরীক্ষক। একই সঙ্গে হালনাগাদ স্থায়ী সম্পদ নিবন্ধনও সরবরাহ করা হয়নি।

ফলে ডেটা সেন্টারটির বিষয়ে চলতি বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে কোনো সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে কি না, সেটিও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা জানিয়েছে, আর্থিক প্রতিবেদনের নোট ৯.২-এ উল্লেখ করা সব অগ্রিম, আমানত ও প্রিপেমেন্ট ভালো অবস্থায় রয়েছে এবং এগুলো সুরক্ষিত।

আমরা নেটওয়ার্কস এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আইএসপি, আইওটি, আইটি ও আইটিইএস সেবা দিয়ে আসছে। ২০১৭ সালে কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৩৩ দশমিক ০৪ শতাংশ রয়েছে স্পন্সর ও পরিচালকদের কাছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ২১ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৪৫ দশমিক ২২ শতাংশ শেয়ার।

সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আমরা নেটওয়ার্কসের শেয়ারের দর অপরিবর্তিত থেকে ১৮ টাকা ৭০ পয়সায় লেনদেন শেষ হয়েছে।

সর্বশেষ