কোনো মূল্যসংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) প্রকাশ ছাড়াই মাত্র ১৭ মাসে সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর বেড়েছে ৩৫১ শতাংশ। অস্বাভাবিক এই দরবৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পৃথক তদন্ত করেছে। বিএসইসির তদন্ত প্রতিবেদন বর্তমানে এনফোর্সমেন্ট পর্যায়ে রয়েছে বলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সূত্র জানিয়েছে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারদর ছিল ২৮ টাকা ৪০ পয়সা। সেখান থেকে ৯৯ টাকা ৮০ পয়সা বা ৩৫১ শতাংশ বেড়ে ২০২৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর শেয়ারটির দর দাঁড়ায় ১২৮ টাকা ২০ পয়সায়।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার সূত্রের তথ্যমতে, বিএসইসির তদন্তে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেনে কারসাজির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। একইভাবে ডিএসইর সাম্প্রতিক তদন্তেও শেয়ারটির লেনদেনে বড় ধরনের কারসাজির আলামত ধরা পড়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত বিএসইসি বা ডিএসই—কোনো পক্ষই এই ঘটনায় কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করেনি। একই সঙ্গে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তও হয়নি। ফলে তদন্তে উঠে আসা বিষয়গুলো এখনো প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে।
এদিকে কোম্পানিটির আর্থিক ফলাফলে উন্নতি থাকলেও শেয়ারদরের উল্লম্ফনের সঙ্গে মুনাফা বৃদ্ধির সামঞ্জস্য তুলনামূলকভাবে কম। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের ১১ কোটি ১০ লাখ টাকা থেকে বেড়ে ১৮ কোটি ৪১ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ মুনাফা বেড়েছে ৬৬ শতাংশ।
একই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস ১ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ টাকা ৭০ পয়সা।
তবে শেয়ারদরের সঙ্গে কোম্পানির নিট সম্পদ মূল্যের ব্যবধান বেশ বড়। ২০২৬ সালের জুন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য বা এনএভি ছিল ২৬ টাকা ৩০ পয়সা। বিপরীতে ২১ সেপ্টেম্বর শেয়ারটির বাজারমূল্য দাঁড়ায় ১২৮ টাকা ২০ পয়সা। অর্থাৎ এনএভির তুলনায় বাজারদর ছিল প্রায় ৪ দশমিক ৯ গুণ।
এর আগে ২০২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটি ৩ টাকা ৪০ পয়সা ইপিএস দেখিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে।
১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স একটি ‘এ’ ক্যাটাগরির নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি। ২০০৭ সালে কোম্পানিটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হয়।
বর্তমানে কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৩৬ দশমিক ০৬ শতাংশ রয়েছে স্পন্সর ও পরিচালকদের হাতে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ৩৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ২৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ শেয়ার।
এদিকে চলতি বছরের জুলাইয়ে একটি ক্রেডিট রেটিং সংস্থা সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সকে ‘AAA’ রেটিং দিয়েছে।
























