ঢাকা   সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

জিএসপি ইনভেস্টমেন্টের হিসাব-লেনদেন তদন্ত করবে বিএসইসি

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:২৬, ৯ আগস্ট ২০২৬

সর্বশেষ

জিএসপি ইনভেস্টমেন্টের হিসাব-লেনদেন তদন্ত করবে বিএসইসি

শেয়ারবাজারের মার্চেন্ট ব্যাংক জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের আর্থিক হিসাব, গ্রাহক অ্যাকাউন্ট ও লেনদেন খতিয়ে দেখবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগ যাচাই করতে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

তদন্তে জিএসপি ইনভেস্টমেন্টের গত পাঁচ বছরের আর্থিক অবস্থা, গ্রাহকদের হিসাব, মার্জিন ঋণ, নিট সম্পদ এবং মার্চেন্ট ব্যাংক হিসেবে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রম পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি আইন ও বিএসইসির নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করেছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।

বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ সম্প্রতি এ বিষয়ে আদেশ জারি করেছে। তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন কমিশনের উপপরিচালক মো. শাহনওয়াজ এবং সহকারী পরিচালক নুজহাত খাদিজা মিম। আদেশ অনুযায়ী, তদন্ত শুরু হওয়ার পর ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানান, জিএসপি ইনভেস্টমেন্টের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তদন্তে অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্তের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির ইস্যু ব্যবস্থাপনা, পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা, আন্ডাররাইটিং ও নিজস্ব বিনিয়োগের মতো কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হবে। একই সঙ্গে মার্চেন্ট ব্যাংক হিসেবে নিবন্ধনের শর্তগুলো গত পাঁচ বছরে ঠিকভাবে পূরণ করা হয়েছে কি না, তাও দেখা হবে।

গ্রাহকদের হিসাব, চুক্তিপত্র ও হিসাব বিবরণী নিয়ম অনুযায়ী সংরক্ষণ এবং সরবরাহ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করবে তদন্ত কমিটি। পাশাপাশি গ্রাহকদের দেওয়া মার্জিন ঋণ সংশ্লিষ্ট নিয়ম মেনে দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

এ ছাড়া গত পাঁচ বছরের নিরীক্ষিত ও অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, হিসাবের বই ও অন্যান্য আর্থিক নথি পরীক্ষা করা হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত নিট সম্পদের অবস্থার ওপর। নিট সম্পদে কোনো ঘাটতি বা অবনতি থাকলে তার কারণও অনুসন্ধান করবে বিএসইসি।

নিট সম্পদের ঘাটতির পেছনে বিনিয়োগের মূল্য কমে যাওয়া, লোকসানের বিপরীতে সংরক্ষণ, ঋণাত্মক মালিকানা স্বত্ব বা অন্য কোনো আর্থিক কারণ রয়েছে কি না, তাও তদন্তে দেখা হবে।

তদন্তে কোনো অনিয়ম বা আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে জিএসপি ইনভেস্টমেন্টের মার্চেন্ট ব্যাংক হিসেবে নিবন্ধন সনদ বহাল রাখা বা নবায়নের বিষয়ে কমিশনের কাছে সুপারিশ করা হবে। প্রয়োজন হলে তদন্তের সময় প্রতিষ্ঠানটির অন্য যেকোনো কার্যক্রম বা নথিও যাচাই করতে পারবে কমিটি।

সর্বশেষ