ঢাকা   সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক, আমানত ফেরতে বিশেষ উদ্যোগ

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:২৯, ৯ আগস্ট ২০২৬

সর্বশেষ

৫ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক, আমানত ফেরতে বিশেষ উদ্যোগ

দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট ও বিপুল খেলাপি ঋণের কারণে বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ স্থগিত এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে চুক্তি বাতিলের পর সরকারি তদারকিতে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ, ঋণ ও আমানতের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে গ্রাহকদের অর্থ ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

সবকিছু ঠিক থাকলে পিপলস লিজিং ছাড়া অন্য চার প্রতিষ্ঠানে রোববারই প্রশাসক নিয়োগ হতে পারে। তবে পিপলস লিজিংয়ের ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে চলমান মামলার কারণে সেখানে প্রশাসক নিয়োগে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে না পারা এবং আর্থিক অবস্থার অবনতির কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোকে রেজল্যুশন বা অবসায়নের আওতায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আমানতকারীরা কত টাকা ফেরত পাবেন?

পাঁচ প্রতিষ্ঠানে মোট আমানতের পরিমাণ প্রায় ১৬ হাজার ৭৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের জমা রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

সরকারি সহায়তায় প্রথম পর্যায়ে ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি আমানতকারী ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত পেতে পারেন।

প্রথম ধাপে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর সরকারি তহবিলের প্রাপ্যতা অনুযায়ী এক থেকে দুই মাস পরপর ধাপে ধাপে আরও অর্থ ফেরত দেওয়া হতে পারে।

প্রাথমিকভাবে এ কার্যক্রম শুরু করতে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণ আদায় এবং সম্পদ বিক্রি করে পাওয়া অর্থ থেকেও আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধ করা হবে।

পাঁচ প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের অবস্থা

বন্ধের প্রক্রিয়ায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক দুরবস্থার অন্যতম প্রধান কারণ বিপুল খেলাপি ঋণ। গত ডিসেম্বরের হিসাবে এফএএস ফাইন্যান্সের প্রায় পুরো ঋণই খেলাপি ছিল। প্রতিষ্ঠানটির খেলাপি ঋণের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

এ ছাড়া ফারইস্ট ফাইন্যান্সে খেলাপি ঋণের হার ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সে ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ে প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানের ঋণপোর্টফোলিওর প্রায় পুরো অংশই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। ফলে স্বাভাবিক ব্যবসা পরিচালনা এবং আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

কেন বন্ধ হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো?

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের পেছনে দীর্ঘদিনের আর্থিক দুর্বলতার পাশাপাশি অতীতে ঘটে যাওয়া ঋণ অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। বিশেষ করে পি কে হালদারের বিরুদ্ধে পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, এফএএস ফাইন্যান্স ও বিআইএফসি থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া এস আলম-সংশ্লিষ্ট আর্থিক অনিয়মের প্রভাবও আর্থিক খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

আরও চার প্রতিষ্ঠানকে সময়

এর আগে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ ২০টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে নয়টি প্রতিষ্ঠানকে প্রথম ধাপে বাছাই করা হয়। এর মধ্যে পাঁচটিকে বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাকি চার প্রতিষ্ঠানকে পরিস্থিতি উন্নত করার জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো—প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) এবং প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স।

এই চার প্রতিষ্ঠানে মোট আমানত প্রায় ২ হাজার ৪০২ কোটি টাকা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আর্থিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হলে এসব প্রতিষ্ঠানকেও রেজল্যুশন বা অবসায়নের আওতায় নেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণে এনে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।

সর্বশেষ