ঢাকা   বুধবার ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

দীর্ঘ বিরতির পর আইপিওর জোয়ার, ৬ কোম্পানি তুলতে চায় ৬১২ কোটি টাকা

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:৩৯, ৪ নভেম্বর ২০২৬

আপডেট: ১৬:১৪, ৪ নভেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

দীর্ঘ বিরতির পর আইপিওর জোয়ার, ৬ কোম্পানি তুলতে চায় ৬১২ কোটি টাকা

দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে দেশের শেয়ারবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে নতুন করে মূলধন সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে ছয়টি প্রতিষ্ঠান। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, তৈরি পোশাক, প্যাকেজিং, আর্থিক সেবা, প্রযুক্তি ও বিমা খাতের এসব কোম্পানি সম্মিলিতভাবে ৬১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা সংগ্রহের আবেদন করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অঙ্কের ৪০০ কোটি টাকা তুলতে চায় কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি। এ ছাড়া ডিবিএল গ্রুপের পার্কওয়ে প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিং ৭৮ কোটি এবং সাত বছর পর শতভাগ রপ্তানিমুখী পোশাক কোম্পানি হিসেবে স্ক্যান্ডেক্স (বিডি) লিমিটেড ৫৫ কোটি টাকা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

আইপিওর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের আবেদন করা বাকি তিন প্রতিষ্ঠান হলো অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্স, ডিজিকন টেকনোলজিস ও প্রোটেকটিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। প্রতিষ্ঠান তিনটি যথাক্রমে ৩৪ কোটি ৬৫ লাখ, ৩০ কোটি ও ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায়।

দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে দেশের শেয়ারবাজারে নতুন আইপিও কার্যক্রম কার্যত স্থবির ছিল। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব এবং ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পাবলিক অফারসংক্রান্ত বিধিবিধান পুনর্বিবেচনা ও সংশোধনের উদ্যোগের কারণে নতুন কোম্পানির আইপিও আবেদন আসেনি।

পরবর্তী সময়ে আইপিও বিধিমালায় পরিবর্তন এবং আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার জটিলতা কমানোর উদ্যোগের ফলে কোম্পানিগুলোর মধ্যে আবারও শেয়ারবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

নতুন আবেদন করা ছয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাঁচটি ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে শেয়ার ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায়। এ পদ্ধতিতে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে নিলামের মাধ্যমে শেয়ারের চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ করা হবে।

সাত বছর পর শতভাগ রপ্তানিমুখী পোশাক কোম্পানির আইপিওর সম্ভাবনা

ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে স্ক্যান্ডেক্স (বিডি) লিমিটেড। কোম্পানিটির আইপিও অনুমোদিত হলে সাত বছর পর দেশের শেয়ারবাজারে নতুন কোনো শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ ও নতুন যন্ত্রপাতি কেনার জন্য শেয়ারবাজার থেকে ৫৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায় কোম্পানিটি। এ লক্ষ্যে প্রতিটি শেয়ারের প্রস্তাবিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ টাকা। এর মধ্যে ১০ টাকা অভিহিত মূল্য এবং ৩ টাকা প্রিমিয়াম।

২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত স্ক্যান্ডেক্সের উৎপাদন কারখানা ঢাকার সাভারে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি পুরুষ, নারী ও শিশুদের জন্য টি-শার্টসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক তৈরি করে বিদেশে রপ্তানি করে।

কোম্পানিটির বর্তমানে মাসে প্রায় ১৫ লাখ পিস পোশাক উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। আইপিও প্রসপেক্টাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক উৎপাদন ছিল প্রায় ৩৫ লাখ পিস। ২০২৬ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ পিসে। অর্থাৎ সাত বছরের ব্যবধানে বার্ষিক উৎপাদন প্রায় পাঁচ গুণ হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত মূলধন ১৫০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৭৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

এর আগে ২০১৯ সালে শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রিং শাইন টেক্সটাইল আইপিওর মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল। এরপর আর কোনো শতভাগ রপ্তানিমুখী পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আইপিওর মাধ্যমে বাজারে আসেনি।

তবে তালিকাভুক্তির পর রিং শাইন টেক্সটাইল নানা ধরনের ব্যবসায়িক ও উৎপাদনসংক্রান্ত সংকটে পড়ে। ফলে নতুন করে স্ক্যান্ডেক্সের আইপিও আবেদন তৈরি পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ৪০০ কোটি টাকা তুলতে চায় কনফিডেন্স পাওয়ার

ছয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি পিএলসি। দুটি গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য এ অর্থ সংগ্রহ করতে চায় কোম্পানিটি।

প্রতিষ্ঠানটি বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিওর আবেদন করেছে। এ জন্য প্রতিটি শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪২ টাকা।

সংশোধিত আইপিও বিধিমালা অনুযায়ী, যোগ্য বিনিয়োগকারীরা নির্দেশক মূল্যের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ বেশি অথবা ২৫ শতাংশ কম দরে শেয়ার কেনার প্রস্তাব দিতে পারবেন। পরবর্তী সময়ে নিলামের মাধ্যমে শেয়ারের চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারিত হবে।

কোম্পানিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে কক্সবাজারের উত্তরাঞ্চল এবং বাগেরহাটের মোংলায় দুটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা হবে ১০০ মেগাওয়াট। ফলে দুটি প্রকল্পের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা দাঁড়াবে ২০০ মেগাওয়াট।

আইপিও প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, সংগৃহীত ৪০০ কোটি টাকার মধ্যে ৮৩ শতাংশ বা ৩৩২ কোটি টাকা জমি কেনা ও অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ১৫ শতাংশ বা ৬০ কোটি টাকা ব্যাংকঋণের একটি অংশ পরিশোধে এবং অবশিষ্ট ২ শতাংশ বা ৮ কোটি টাকা আইপিওসংক্রান্ত ব্যয় নির্বাহে ব্যবহার করা হবে।

আইপিওর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কনফিডেন্স পাওয়ার ইতোমধ্যে ১০ দিনব্যাপী রোডশো আয়োজন করেছে।

এর আগে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে টেকনো ড্রাগস বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আইপিওর মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল। এরপর নতুন কোনো বুক বিল্ডিং আইপিওর আবেদন জমা পড়েনি। ফলে কনফিডেন্স পাওয়ারের আবেদনটি এ পদ্ধতিতে নতুন কোম্পানির বাজারে আসার উদ্যোগ হিসেবেও গুরুত্ব পাচ্ছে।

৩০ টাকা প্রিমিয়ামে শেয়ার ছাড়তে চায় পার্কওয়ে প্যাকেজিং

নতুন আইপিও আবেদনকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আরেকটি প্রতিষ্ঠান ডিবিএল গ্রুপের পার্কওয়ে প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিং। কোম্পানিটি শেয়ারবাজার থেকে ৭৮ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায়।

ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে প্রতিটি শেয়ার ৪০ টাকা দরে ইস্যুর প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে ১০ টাকা অভিহিত মূল্য এবং ৩০ টাকা প্রিমিয়াম।

ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে এত বেশি প্রিমিয়ামে শেয়ার ইস্যুর প্রস্তাব তুলনামূলকভাবে বিরল। এর আগে ২০১৬ সালে ডরিন পাওয়ার জেনারেশনস অ্যান্ড সিস্টেমস প্রতিটি শেয়ারে ১৯ টাকা প্রিমিয়াম নিয়ে আইপিওর মাধ্যমে ৫৮ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল।

পার্কওয়ে প্যাকেজিং মোট ১ কোটি ৯৫ লাখ নতুন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে দেশের শেয়ারবাজারের মূল মার্কেটে তালিকাভুক্ত হতে চায়।

আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থের বড় অংশ কারখানা সম্প্রসারণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে কোম্পানিটির। এর মধ্যে কারখানার ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণে ৬৫ কোটি টাকা, নতুন যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনার জন্য ১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং আইপিওসংক্রান্ত ব্যয় নির্বাহে ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ সংগৃহীত ৭৮ কোটি টাকার মধ্যে ৭৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা সরাসরি কারখানার অবকাঠামো ও উৎপাদন সরঞ্জামে বিনিয়োগ করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

৩৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করতে চায় অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্স

আর্থিক সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্সও আইপিওর মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে ৩৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা সংগ্রহের আবেদন করেছে।

কোম্পানিটি ২০০৩ সালে অ্যালায়েন্স লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানি নামে নিবন্ধিত হয়। তবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে ২০১৭ সালে। দেশের বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের উদ্যোগে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তাদের মধ্যে সামিট গ্রুপ, র‌্যাংগস গ্রুপ, অ্যালায়েন্স হোল্ডিংস, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স এবং কনসেপ্ট নিটিংয়ের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

আইপিও প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্সের প্রধান শেয়ারহোল্ডার পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স পিএলসি। প্রতিষ্ঠানটি শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রায়ত্ত পিপলস ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইপিওর অপেক্ষায় ডিজিকন টেকনোলজিস ও প্রোটেকটিভ ইসলামী লাইফ

প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠান ডিজিকন টেকনোলজিস আইপিওর মাধ্যমে ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহের আবেদন করেছে। অন্যদিকে বিমা খাতের প্রতিষ্ঠান প্রোটেকটিভ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স শেয়ারবাজার থেকে ১৫ কোটি টাকা তুলতে চায়।

দুটি প্রতিষ্ঠানই ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে শেয়ার ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে। তবে পাওয়া আবেদনসংক্রান্ত তথ্যে কোম্পানি দুটির শেয়ারপ্রতি প্রস্তাবিত মূল্য, সংগৃহীত অর্থ ব্যবহারের বিস্তারিত পরিকল্পনা এবং অন্যান্য আর্থিক তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

ছয় কোম্পানির আইপিও আবেদনের চিত্র

কোম্পানির নাম

প্রস্তাবিত অর্থ

কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি

৪০০ কোটি টাকা

পার্কওয়ে প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিং

৭৮ কোটি টাকা

স্ক্যান্ডেক্স (বিডি)

৫৫ কোটি টাকা

অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্স

৩৪.৬৫ কোটি টাকা

ডিজিকন টেকনোলজিস

৩০ কোটি টাকা

প্রোটেকটিভ ইসলামী লাইফ

১৫ কোটি টাকা

মোট

৬১২.৬৫ কোটি টাকা

নতুন আইপিও ঘিরে শেয়ারবাজারে সম্ভাবনা

দীর্ঘদিন নতুন কোম্পানির আইপিও কার্যক্রম স্থবির থাকার পর একসঙ্গে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের ৬১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা সংগ্রহের আবেদন দেশের শেয়ারবাজারে নতুন কোম্পানির অংশগ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক, প্যাকেজিং, আর্থিক সেবা, প্রযুক্তি ও বিমা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ বাজারে খাতভিত্তিক বৈচিত্র্য বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে।

তবে আইপিওর আবেদন জমা দেওয়ার অর্থ এই নয় যে প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ার ছাড়ার অনুমোদন পেয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের পরই তারা শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে।

এ ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা, ব্যবসার ধারাবাহিকতা, শেয়ারপ্রতি প্রস্তাবিত মূল্য, প্রিমিয়ামের যৌক্তিকতা এবং সংগৃহীত অর্থ ব্যবহারের পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। বিশেষ করে পার্কওয়ে প্যাকেজিংয়ের ৩০ টাকা প্রিমিয়ামে শেয়ার ছাড়ার প্রস্তাব এবং কনফিডেন্স পাওয়ারের বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বড় অঙ্কের মূলধন সংগ্রহের উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের কাছে যথাযথ মূল্যায়নের দাবি রাখে।

সব মিলিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর ছয় প্রতিষ্ঠানের ৬১২ কোটি ৬৫ লাখ টাকার আইপিও আবেদন দেশের শেয়ারবাজারে নতুন করে মূলধন সংগ্রহের কার্যক্রম গতিশীল হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এসব আবেদন শেষ পর্যন্ত কতটি অনুমোদন পাবে এবং কোম্পানিগুলো প্রকৃতপক্ষে কত টাকা সংগ্রহ করতে পারবে, তা নির্ভর করবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত ও পরবর্তী প্রক্রিয়ার ওপর।

সর্বশেষ