ঢাকা   মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

শেয়ার কারসাজিতে ২১ কোটি টাকার বেশি মুনাফা, এবার অর্থের উৎস খুঁজছে বিএসইসি

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:২২, ৩ নভেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

শেয়ার কারসাজিতে ২১ কোটি টাকার বেশি মুনাফা, এবার অর্থের উৎস খুঁজছে বিএসইসি

শেয়ারবাজারে কারসাজির মাধ্যমে ২১ কোটি টাকার বেশি মুনাফা করার অভিযোগে দুই কোটি টাকা জরিমানার পর এবার অভিযুক্ত আজাদ হোসেন পাটোয়ারী ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনের উৎস খতিয়ে দেখতে যাচ্ছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এ লক্ষ্যে গত রোববার একটি আদেশ জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছ থেকে পাওয়া বিশেষ গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিএসইসি এ উদ্যোগ নিয়েছে। ওই প্রতিবেদনে আজাদ হোসেন পাটোয়ারী ও তাঁর সহযোগীদের নামে বিভিন্ন তফশিলি ব্যাংক, স্টক ডিলার ও স্টক ব্রোকার প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত হিসাবের আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বিএফআইইউর প্রতিবেদন পর্যালোচনায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় ইনসাইডার ট্রেডিং ও মার্কেট ম্যানিপুলেশনের মতো অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ ও সন্দেহের বিষয় উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসি এ-সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি পুনর্গঠন করেছে। একই সঙ্গে আজাদ হোসেন পাটোয়ারী এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের আর্থিক লেনদেন অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে অর্থের উৎস, এক হিসাব থেকে অন্য হিসাবে স্থানান্তর এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনের ধারাবাহিকতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে শেয়ার কারসাজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থের উৎস ও ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা।

খান ব্রাদার্সের শেয়ার কারসাজিতে ২১ কোটি টাকার বেশি মুনাফা

শেয়ারবাজারে ইনসাইডার ট্রেডিং ও শেয়ার কারসাজির অভিযোগে আজাদ হোসেন পাটোয়ারী আগে থেকেই আলোচনায় রয়েছেন। তালিকাভুক্ত কোম্পানি খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার নিয়ে সংঘটিত কারসাজির অভিযোগে বিএসইসির তদন্তে তাঁর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।

বিএসইসির তদন্ত অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত সময়ে সংঘবদ্ধভাবে কোম্পানিটির শেয়ার নিয়ে কৃত্রিম লেনদেন ও দর ওঠানামা করানোর অভিযোগ রয়েছে। এ কারসাজির মাধ্যমে আজাদ হোসেন পাটোয়ারী ৮ কোটি ২১ লাখ টাকা রিয়েলাইজড গেইন বা শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা করেন। এর বাইরে তদন্তের আওতাধীন শেয়ারে তাঁর ১৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকার আনরিয়েলাইজড গেইন বা অবিক্রীত শেয়ারে কাগুজে মুনাফা ছিল।

অর্থাৎ তদন্তে চিহ্নিত রিয়েলাইজড ও আনরিয়েলাইজড গেইন মিলিয়ে তাঁর মুনাফার পরিমাণ দাঁড়ায় ২১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

শেয়ার কারসাজির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় গত মাসে বিএসইসি তাঁকে দুই কোটি টাকা জরিমানা করে। এ বিষয়ে কমিশন শাস্তিমূলক আদেশও জারি করেছে।

এবার অর্থের উৎস ও গতিপথ অনুসন্ধান

শেয়ার কারসাজির অভিযোগে জরিমানার পর এবার আজাদ হোসেন পাটোয়ারী ও তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্টদের আর্থিক লেনদেনের উৎস এবং গতিপথ অনুসন্ধানে যাচ্ছে বিএসইসি। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ও শেয়ারবাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত হিসাবের মাধ্যমে অর্থের উৎস, স্থানান্তর এবং সম্ভাব্য মানি লন্ডারিংয়ের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হবে।

বিএফআইইউর বিশেষ গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নেওয়া এই তদন্তের মাধ্যমে শেয়ার কারসাজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থ কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং কোন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে—এসব বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ফলে খান ব্রাদার্সের শেয়ার কারসাজিতে জরিমানার পর বিএসইসির নতুন এই উদ্যোগে শুধু বাজার কারসাজির ঘটনা নয়, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অর্থের উৎস ও আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতাও তদন্তের আওতায় আসছে।

সর্বশেষ