ঢাকা   মঙ্গলবার ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

প্রিমিয়ার ব্যাংকের নগদ প্রবাহে বড় পরিবর্তন, ঋণাত্মক থেকে ইতিবাচক

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:১২, ৩ নভেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

প্রিমিয়ার ব্যাংকের নগদ প্রবাহে বড় পরিবর্তন, ঋণাত্মক থেকে ইতিবাচক

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে লোকসানের পরিমাণ কমেছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক খাতের প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসির। একই সঙ্গে ব্যাংকটির পরিচালন কার্যক্রম থেকে শেয়ারপ্রতি নিট নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) ঋণাত্মক অবস্থা কাটিয়ে ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। তবে এই নগদ প্রবাহের উন্নতির পেছনে নিজস্ব ব্যবসায়িক আয় বৃদ্ধির চেয়ে অন্যান্য ব্যাংক ও এজেন্টদের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ বৃদ্ধি বড় ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে, পরিচালন লোকসান বৃদ্ধির কারণে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) কমেছে প্রায় ৪৪ শতাংশ।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রকাশিত অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তৃতীয় প্রান্তিকে প্রিমিয়ার ব্যাংকের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ঋণাত্মক ১ টাকা ৩৭ পয়সা। অর্থাৎ এই তিন মাসে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ৩৭ পয়সা।

আগের বছরের একই সময়ে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস ছিল ঋণাত্মক ৪ টাকা ৩৯ পয়সা। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি লোকসান কমেছে ৩ টাকা ২ পয়সা বা প্রায় ৬৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। তবে লোকসান কমলেও ব্যাংকটি এখনো মুনাফায় ফিরতে পারেনি।

নয় মাসেও লোকসান, তবে কমেছে আগের বছরের তুলনায়

চলতি বছরের প্রথম নয় মাসের আর্থিক ফলাফলও ব্যাংকটির লোকসান কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ঋণাত্মক ৪ টাকা ৫২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ঋণাত্মক ৫ টাকা ৪৯ পয়সা।

অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রথম নয় মাসে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান কমেছে ৯৭ পয়সা বা প্রায় ১৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি প্রতিবেদনের সময়ে পরিচালন ব্যয় কমেছে। মূলত ব্যয় হ্রাসের কারণেই শেয়ারপ্রতি লোকসানের পরিমাণ কমেছে। তবে লোকসান নিয়ন্ত্রণে কিছুটা অগ্রগতি হলেও ব্যাংকটির সামগ্রিক আর্থিক ফলাফল এখনো নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে।

ঋণাত্মক থেকে ইতিবাচক নগদ প্রবাহ

প্রিমিয়ার ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে পরিচালন কার্যক্রম থেকে শেয়ারপ্রতি নিট নগদ প্রবাহে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ব্যাংকটির সমন্বিত এনওসিএফপিএস হয়েছে ২৪ টাকা ৯৭ পয়সা। অথচ আগের বছরের একই সময়ে এই সূচক ছিল ঋণাত্মক ২২ টাকা ৭৩ পয়সা।

সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহে ৪৭ টাকা ৭০ পয়সার ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। অর্থাৎ আগের বছরের ঋণাত্মক অবস্থা কাটিয়ে চলতি বছরে ইতিবাচক নগদ প্রবাহে ফিরেছে ব্যাংকটি।

তবে এই উন্নতির পেছনে ব্যাংকটির নিজস্ব ব্যবসায়িক আয় বৃদ্ধির চেয়ে অন্যান্য ব্যাংক ও এজেন্টদের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আলোচ্য সময়ে অন্যান্য ব্যাংক ও এজেন্টদের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ বেড়েছে। মূলত এ কারণেই আগের বছরের তুলনায় পরিচালন কার্যক্রমের নিট নগদ প্রবাহে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।

ফলে নগদ প্রবাহ ইতিবাচক হওয়াকে এককভাবে ব্যাংকটির ব্যবসায়িক সক্ষমতার উন্নতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, এই প্রবাহ বৃদ্ধির পেছনে ঋণ গ্রহণের ভূমিকা রয়েছে, যা ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার মূল্যায়নে বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

এক বছরে শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য কমেছে ৪৩.৮৪%

লোকসান কমা এবং নগদ প্রবাহে ইতিবাচক পরিবর্তনের বিপরীতে প্রিমিয়ার ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যে (এনএভি) বড় ধরনের পতন হয়েছে।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ৭ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে এই অঙ্ক ছিল ১৬ টাকা ১৫ পয়সা।

সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য কমেছে ৭ টাকা ৮ পয়সা বা প্রায় ৪৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আলোচ্য প্রতিবেদনের সময়ে পরিচালন লোকসান বৃদ্ধি পাওয়ায় শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য কমেছে। অর্থাৎ শেয়ারপ্রতি লোকসান আগের বছরের তুলনায় কমলেও পরিচালন লোকসানের প্রভাবে ব্যাংকটির সম্পদমূল্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

সব মিলিয়ে প্রিমিয়ার ব্যাংকের চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনে মিশ্র চিত্র উঠে এসেছে। পরিচালন ব্যয় কমায় শেয়ারপ্রতি লোকসান কমেছে, আর অন্যান্য ব্যাংক ও এজেন্টদের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ বৃদ্ধির কারণে নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক থেকে ইতিবাচক হয়েছে। তবে একই সময়ে পরিচালন লোকসানের প্রভাবে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যে বড় পতন হয়েছে।

তাই লোকসান কমা ও নগদ প্রবাহের উন্নতির পাশাপাশি সেই নগদ প্রবাহের উৎস এবং সম্পদমূল্যের অবনতি—দুটি বিষয়ই ব্যাংকটির আর্থিক পরিস্থিতি মূল্যায়নে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

সর্বশেষ