শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রহিমা ফুড করপোরেশনের শেয়ার লেনদেনে কারসাজি ও নিষিদ্ধ সময়ে শেয়ার কেনাবেচার দায়ে দুই ব্যক্তিকে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। জরিমানাপ্রাপ্তরা হলেন শেয়ার ব্যবসায়ী মো. দেলোয়ার হোসেন এবং রহিমা ফুডের ভ্যাট ইন-চার্জ মো. সোলয়মান।
বুধবার বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বিশেষ তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পৃথক দুটি এনফোর্সমেন্ট আদেশে এ জরিমানা করা হয়। আদেশ অনুযায়ী, দুই ব্যক্তিকে ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে জরিমানার অর্থ জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ না করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১০৪.৯৩ শতাংশ বেড়েছিল শেয়ারদর
ডিএসইর তদন্তে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ জুন থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত রহিমা ফুডের শেয়ার লেনদেনে অস্বাভাবিকতা ছিল। এ সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর ৬৮ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বেড়ে ১৪১ টাকা ২০ পয়সায় দাঁড়ায়। অর্থাৎ, আলোচ্য সময়ে শেয়ারটির দাম প্রায় ১০৪.৯৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
তদন্তে শেয়ার ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে নিজের একাধিক বিও হিসাব ব্যবহার করে কৃত্রিম লেনদেন তৈরির অভিযোগ উঠে আসে। তিনি এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ ও শেলটেক ব্রোকারেজে থাকা নিজের দুটি বিও হিসাবের মধ্যে শেয়ার কেনাবেচা করেন।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই একটি হিসাব থেকে অন্য হিসাবে প্রতিটি ১৩৪ টাকা দরে ২ হাজার ৮৬টি শেয়ার লেনদেন করেন তিনি। এতে শেয়ারের প্রকৃত মালিকানা পরিবর্তন না হলেও বাজারে কৃত্রিম চাহিদা তৈরি এবং শেয়ারদর প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
নিজের হিসাবের মধ্যে শেয়ার লেনদেন, ওয়াশ ট্রেডের অভিযোগ
বিএসইসি এ ধরনের লেনদেনকে ‘ওয়াশ ট্রেড’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। দেলোয়ার হোসেন এটিকে প্রযুক্তিগত ভুল বলে দাবি করলেও কমিশন তাঁর ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি। বিএসইসির মতে, এ ধরনের কার্যক্রম সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর বিধান লঙ্ঘনের শামিল।
ওয়াশ ট্রেড হলো এমন এক ধরনের লেনদেন, যেখানে একই ব্যক্তি নিজের নিয়ন্ত্রণাধীন একাধিক হিসাবের মধ্যে শেয়ার কেনাবেচা করেন। এতে প্রকৃত মালিকানা পরিবর্তন না হলেও বাজারে লেনদেন বা চাহিদা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি হতে পারে।
নিষিদ্ধ সময়ে শেয়ার কেনাবেচা, জরিমানা সোলয়মানের
অন্যদিকে, রহিমা ফুডের ভ্যাট ইন-চার্জ মো. সোলয়মানের বিরুদ্ধে কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে নিষিদ্ধ সময়ের বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে জরিমানা করা হয়েছে। তদন্ত অনুযায়ী, বিএসইসির ‘সুবিধাভোগী ব্যবসা নিষিদ্ধকরণ বিধিমালা, ২০২২’ লঙ্ঘন করে সোলয়মান ও তাঁর স্ত্রী নাজমা বেগম কোম্পানিটির শেয়ার কেনাবেচা করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদনের আগ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের শেয়ার লেনদেনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সোলয়মান দম্পতি ওই সময়ে রহিমা ফুডের ১২ হাজার ৪০৯টি শেয়ার কেনেন এবং ১০ হাজার ২৫৪টি শেয়ার বিক্রি করেন। এসব লেনদেনের মাধ্যমে তাঁরা ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা মুনাফা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুনানিতে সোলয়মান সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান সম্পর্কে অজ্ঞতার কথা জানালেও বিএসইসি তা গ্রহণ করেনি।
কমিশন জানিয়েছে, শেয়ারবাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় অনিয়ম ও কারসাজির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






















