ঢাকা   বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

মিউচুয়াল ফান্ডে নতুন এজেন্ট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা বিএসইসির

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:০২, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

মিউচুয়াল ফান্ডে নতুন এজেন্ট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা বিএসইসির

দেশের শেয়ারবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ সম্প্রসারণে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে নতুন এজেন্ট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ ব্যবস্থায় প্রশিক্ষণ ও সনদপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের লাইসেন্স দিয়ে মিউচুয়াল ফান্ডের প্রচার ও প্রসারে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বেমেয়াদি বা ওপেন-এন্ড ফান্ডের বিস্তারেও গুরুত্ব দিচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে রাজধানীর ডিএসই টাওয়ারে আয়োজিত ‘ডিজিটাল প্রতারণা ও জালিয়াতি সম্পর্কে সতর্কতা’ শীর্ষক সেমিনারে এ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) যৌথভাবে সেমিনারটির আয়োজন করে।

ভারতের আদলে চালু হবে এজেন্ট ব্যবস্থা

সেমিনারে বিএসইসি চেয়ারম্যান ভারতের মিউচুয়াল ফান্ড খাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, দেশটিতে নিবন্ধিত ও প্রশিক্ষিত এজেন্টরা সাধারণ মানুষের মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ড সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বাংলাদেশেও এ ধরনের ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ভারতে অ্যাসোসিয়েশন অব মিউচুয়াল ফান্ডস ইন ইন্ডিয়ার (এএমএফআই) ‘মিউচুয়াল ফান্ড সহি হ্যায়’ প্রচারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ড সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি পদ্ধতিগত বিনিয়োগ পরিকল্পনা বা এসআইপির মাধ্যমে নিয়মিত ছোট অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিএসইসি চেয়ারম্যানের মতে, বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের প্রসার ঘটাতে পেশাদার এজেন্ট ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে মেয়াদি বা ক্লোজড-এন্ড ফান্ডের তুলনায় বেমেয়াদি বা ওপেন-এন্ড ফান্ডের বিস্তারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

বিআইসিএমের প্রশিক্ষণ, বিএসইসির লাইসেন্স

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে দক্ষ জনবল তৈরি ও এজেন্ট ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম) মাধ্যমে বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্স চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ শেষে যোগ্যতার সনদ অর্জনকারী ব্যক্তিরা বিএসইসির নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে এজেন্ট লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ পাবেন। লাইসেন্সধারী এজেন্টরা শহর থেকে গ্রামপর্যায়ে মিউচুয়াল ফান্ড সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াবেন এবং সাধারণ মানুষকে এ ধরনের বিনিয়োগের বৈশিষ্ট্য, সুযোগ ও ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা দেবেন।

সরাসরি শেয়ার কেনার বদলে পেশাদার ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগের ওপর জোর

দেশের শেয়ারবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, অনেক বিনিয়োগকারী আর্থিক বিশ্লেষণ ছাড়াই আবেগ বা গুজবের ভিত্তিতে শেয়ার কেনাবেচা করেন। এতে তাঁদের লোকসানের ঝুঁকি বাড়ে। অন্যদিকে, মিউচুয়াল ফান্ডে পেশাদার ফান্ড ম্যানেজাররা গবেষণা ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগ করেন।

তবে মিউচুয়াল ফান্ডেও বাজারঝুঁকি রয়েছে এবং এ ধরনের বিনিয়োগে মুনাফা বা মূলধন সুরক্ষার নিশ্চয়তা নেই। বিনিয়োগের আগে ফান্ডের বিনিয়োগনীতি, ব্যয় ও ঝুঁকির বিষয়গুলো বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বাজারের গভীরতা বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, দেশের শেয়ারবাজারের গভীরতা ও বাজার মূলধন বাড়ানো শুধু নিয়ন্ত্রক সংস্থার একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য মার্চেন্ট ব্যাংক, ব্রোকারেজ হাউজ, ফান্ড ব্যবস্থাপনা কোম্পানি, গণমাধ্যম এবং বিনিয়োগকারীদের সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও জানান, বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় মিউচুয়াল ফান্ড খাতের বিকাশে নীতিমালা ও বিধিবিধান সহজ করার উদ্যোগ নিচ্ছে বিএসইসি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মিউচুয়াল ফান্ড সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের অংশগ্রহণ সম্প্রসারণ এবং শেয়ারবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের ভিত্তি শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সর্বশেষ