শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোকে বর্তমান আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ভবিষ্যতে আইপিও বিধিমালায় পরিবর্তন আসতে পারে—এমন আশঙ্কায় আবেদন স্থগিত বা বিলম্ব না করারও আহ্বান জানিয়েছে কমিশন। বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ইক্যুইটি সিকিউরিটিজের জনসাধারণের কাছে প্রস্তাব) বিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী আইপিওর মাধ্যমে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন মূলধন সংগ্রহে আগ্রহী কোম্পানিগুলো এই বিধিমালা মেনেই আইপিওর জন্য আবেদন করতে পারবে।
ইতোমধ্যে আবেদন করা কিংবা আবেদন করার প্রস্তুতি নেওয়া কোম্পানিগুলোর জন্যও অপেক্ষা না করার পরামর্শ দিয়েছে বিএসইসি। কমিশনের ভাষ্য, ভবিষ্যতে আইপিওসংক্রান্ত বিধিমালায় কোনো সংস্কার, পরিবর্তন বা শিথিলতা এলে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বর্তমানে আবেদনকারী কোম্পানিগুলোও সেই সুবিধা পাবে। ফলে সম্ভাব্য পরিবর্তনের আশঙ্কায় বিদ্যমান আবেদন প্রক্রিয়া থামিয়ে রাখার প্রয়োজন নেই।
নতুন মূলধন ছাড়াই তালিকাভুক্তির উদ্যোগ
ব্যবসা পরিচালনা বা সম্প্রসারণের জন্য নতুন মূলধনের প্রয়োজন নেই—এমন প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর জন্য তালিকাভুক্তির বিকল্প পথ তৈরির উদ্যোগও নিয়েছে বিএসইসি। এর অংশ হিসেবে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক এক্সচেঞ্জে সিকিউরিটিজের সরাসরি তালিকাভুক্তি) বিধিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। জনমত গ্রহণের জন্য খসড়াটি ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ডাইরেক্ট লিস্টিং ব্যবস্থায় কোম্পানিকে নতুন শেয়ার ইস্যু করে অর্থ সংগ্রহ করতে হবে না। বিদ্যমান শেয়ারধারীরা তাঁদের হাতে থাকা শেয়ার অফলোডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত করতে পারবেন।
বিএসইসি জানিয়েছে, নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণকারী কোম্পানিগুলো ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের জন্য আবেদন করতে পারবে। এর ফলে নতুন ও সক্ষম প্রতিষ্ঠানের শেয়ারবাজারে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে বিদ্যমান শেয়ারধারীদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রির পথ তৈরি হবে। কমিশনের মতে, এতে বাজারের গভীরতা ও পরিধি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডাইরেক্ট লিস্টিংসংক্রান্ত বিধিমালা শিগগিরই গেজেট আকারে প্রকাশ করে কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছে বিএসইসি। এ ব্যবস্থার আওতাভুক্ত এবং শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তিতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোকে তাই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন।






















