শেয়ারবাজার ও শিল্প খাতের আলোচিত ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানকে বাদ দিয়ে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। কোম্পানিটির ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান বোর্ড থেকে সরে যেতে সম্মতি দিয়েছেন। তাঁর পদত্যাগের পর নতুন কাঠামোয় পরিচালনা পর্ষদ গঠনের পরিকল্পনা জানিয়েছে কোম্পানিটি।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন—বিএসইসিকে দেওয়া এক চিঠিতে নতুন বোর্ড গঠনের প্রস্তাব তুলে ধরেছে বেক্সিমকো ফার্মা। প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে তিনজন পরিচালক, চারজন স্বতন্ত্র পরিচালক এবং আইএফআইসি ব্যাংকের মনোনীত একজন পরিচালক বোর্ডে থাকবেন। পাশাপাশি কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদাধিকারবলে পরিচালনা পর্ষদের সদস্য থাকবেন। এ কাঠামোর বিষয়ে বিএসইসির সম্মতি পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই বেক্সিমকো ফার্মার পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে জটিলতা চলছিল। ২০২৫ সালের শুরুতে বিএসইসি কোম্পানিটির বোর্ডে নয়জন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয়। তবে ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট করে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস। ফলে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় পরিচালনা পর্ষদের স্বাভাবিক কার্যক্রমে জটিলতা দেখা দেয়।
বোর্ডসংক্রান্ত এই জটিলতার প্রভাব পড়ে কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশেও। নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে না পারায় আন্তর্জাতিক বাজারে কোম্পানিটির তালিকাভুক্তি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
চলতি বছরের ২ জানুয়ারি লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট মার্কেট—এআইএমে বেক্সিমকো ফার্মার গ্লোবাল ডিপোজিটরি রিসিপ্ট—জিডিআর-এর লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ না করাকেই এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার পর গত জুনে বিএসইসির বিশেষ অনুমোদনে বেক্সিমকো ফার্মার বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদনসহ বকেয়া কয়েকটি প্রান্তিকের হিসাব অনুমোদন করা হয়।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটির সমন্বিত মুনাফা প্রায় ৬৯৪ কোটি টাকা দাঁড়ায়। একই সময়ে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য শেয়ারপ্রতি ৪ টাকা ৭৫ পয়সা, অর্থাৎ ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়।
আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত ২৭ জুন লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে বেক্সিমকো ফার্মার জিডিআর লেনদেন পুনরায় শুরু হয়। প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর লেনদেন চালু হওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালিকাচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি থেকে রক্ষা পায় কোম্পানিটি। লেনদেন শুরুর প্রথম দিনেই জিডিআরের দামে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা যায়।
এদিকে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে বেক্সিমকো ফার্মার আয় প্রায় ১৩ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৪২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে কোম্পানিটির মুনাফার অবস্থানও শক্তিশালী ছিল বলে জানা গেছে।
সালমান এফ রহমানের বোর্ড থেকে সরে যাওয়া এবং নতুন কাঠামোয় পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের উদ্যোগকে বেক্সিমকো ফার্মার করপোরেট পরিচালনায় বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন বোর্ডের মাধ্যমে পরিচালন কাঠামো আরও কার্যকর করা, করপোরেট সুশাসন জোরদার এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে কোম্পানির অবস্থান ধরে রাখা, ব্যবসার প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখা, নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করাই নতুন বোর্ডের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
























