বিনিয়োগকারীর অনুমতি ছাড়াই শেয়ার কেনাবেচা, মার্জিন হিসাবে নন-মার্জিন শেয়ার কেনা এবং বিও হিসাবে জমা অর্থ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এনসিসি ব্যাংক ব্রোকারেজ হাউজের মিরপুর-১০ শাখার বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিনিয়োগকারী আবুল কালাম আজাদের জমা করা ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা ফেরত ও কেটে নেওয়া সুদ মওকুফের আবেদনটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি)।
সম্প্রতি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের শেয়ারবাজার-১ শাখা থেকে বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, মিরপুর-১০ নম্বর এনসিসি ব্যাংক ব্রোকারেজ হাউজে আবুল কালাম আজাদের জমা করা ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে করা আবেদনটি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত আগস্টে বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন আবুল কালাম আজাদ। ব্রোকারেজ হাউজটির ০৩৯২৬ কোডের বিও হিসাব পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি জমা করা অর্থ ফেরত এবং কেটে নেওয়া সুদ মওকুফের আবেদন করেন।
অভিযোগপত্রে আবুল কালাম আজাদ বলেন, এনসিসি ব্যাংক ব্রোকারেজ হাউজের মিরপুর-১০ শাখা তাঁর অনুমতি ছাড়াই বিও হিসাবে জমা থাকা ১ কোটি ৪২ লাখ টাকা দিয়ে বিভিন্ন নিম্নমানের শেয়ার কেনাবেচা করেছে। নাহিদ, আসিফ, মাকসুদ ও সানি নামের কয়েকজন ট্রেডার তাঁর অনুমতি ছাড়া বেশিরভাগ লেনদেন করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ছাড়া তাঁর মার্জিন হিসাব ব্যবহার করে নন-মার্জিন শেয়ার কেনা হয়েছে বলেও দাবি করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, এসব লেনদেনের মধ্যে এবি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, অ্যাসোসিয়েটেড অক্সিজেন ও ম্যাকসন্স স্পিনিংয়ের মতো কোম্পানির শেয়ার রয়েছে। এসব শেয়ার কেনার ক্ষেত্রেও তাঁর কোনো অনুমতি বা নির্দেশনা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন আবুল কালাম আজাদ। তাঁর ভাষ্য, এভাবে শেয়ার কেনাবেচার কারণে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এ ছাড়া কোনো ধরনের ক্রয়াদেশ ছাড়াই বিভিন্ন নিম্নমানের শেয়ার লেনদেন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব লেনদেনে তাঁর হিসাবে বড় ধরনের লোকসান হয়েছে। একই সঙ্গে অনুমতি ছাড়া শেয়ার কেনাবেচার ফলে বিনিয়োগের মূল অর্থও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর সুদ মওকুফের জন্য আবেদন করেছিলেন আবুল কালাম আজাদ। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ওই আবেদনের নিষ্পত্তি হয়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, আবেদনটি এখনো ব্রোকারেজ হাউজটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) কার্যালয়ে ফাইলবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের ১৩ ও ১৬ নভেম্বরের পোর্টফোলিও তুলনা করলে তাঁর হিসাব থেকে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপক অনিয়মের বিষয়টি পাওয়া যাবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সিইও আরেফিন, নাজমা খাতুন ও আদনান দায়ী বলে অভিযোগ করেছেন আবুল কালাম আজাদ।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগকারীর অনুমতি ছাড়া তাঁর বিও হিসাব ব্যবহার করে শেয়ার কেনাবেচার অভিযোগ গুরুতর। একইভাবে মার্জিন হিসাবে নন-মার্জিন শেয়ার কেনা এবং বিনিয়োগকারীর অর্থ অন্যভাবে ব্যবহারের বিষয়গুলোও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
তাঁদের মতে, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি শুধু একজন বিনিয়োগকারীর আর্থিক ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এতে ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, গ্রাহকের অনুমতি ছাড়া লেনদেন এবং বিনিয়োগকারীর সম্পদ সুরক্ষার ব্যবস্থাপনাও প্রশ্নের মুখে পড়বে।
অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীর অর্থ ও স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
























