ঢাকা   বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

কোম্পানি আইনে শেয়ার বাইব্যাকের সুযোগ চায় ডিবিএ

মার্জার-অ্যাকুইজিশনের জটিলতা কমাতে বিএসইসিকে ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:০৫, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

মার্জার-অ্যাকুইজিশনের জটিলতা কমাতে বিএসইসিকে ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব

তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে নিজস্ব শেয়ার পুনঃক্রয়ের (বাইব্যাক) সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি মার্জার ও অ্যাকুইজিশন প্রক্রিয়া সহজ করতে কোম্পানি আইনে প্রয়োজনীয় বিধান যুক্ত করার সুপারিশ করেছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। একই সঙ্গে এসব কার্যক্রমের বিধি প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্ব বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সংগঠনটি।

এ লক্ষ্যে প্রস্তাবিত কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর তৃতীয় সংশোধনীতে প্রয়োজনীয় সংযোজনের দাবি জানিয়েছে ডিবিএ। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের কাছে সংগঠনের প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত লিখিত সুপারিশ পাঠানো হয়। এর অনুলিপি বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সদয় অবগতির জন্যও পাঠানো হয়েছে।

ডিবিএর প্রস্তাব অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে নিজস্ব শেয়ার কিনে নেওয়ার আইনগত অধিকার দেওয়া হলে মূলধন ব্যবস্থাপনার সুযোগ বাড়বে। এ জন্য কোম্পানি আইনে সুনির্দিষ্ট বিধান সংযোজনের পাশাপাশি বাইব্যাক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন তৈরির ক্ষমতাও বিএসইসির হাতে থাকা উচিত বলে মনে করে সংগঠনটি।

শেয়ার বাইব্যাকের ক্ষেত্রে শুধু বিধি তৈরি নয়, তা কার্যকর করা, তদারকি, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং সুশাসন নিশ্চিত করার দায়িত্বও বিএসইসিকে দেওয়ার সুপারিশ করেছে ডিবিএ।

অন্যদিকে, তালিকাভুক্ত কোম্পানির একীভূতকরণ ও অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান দীর্ঘসূত্রতা এবং আইনি জটিলতা কমানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি। এ ধরনের কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় বিধি ও প্রবিধান প্রণয়ন এবং সেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষমতা বিএসইসিকে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ডিবিএর মতে, পুঁজিবাজার ও তালিকাভুক্ত কোম্পানির প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিএসইসির হাতেই এসব বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির ক্ষমতা থাকা যৌক্তিক। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুত হবে এবং একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছতা ও করপোরেট সুশাসন জোরদার করা সম্ভব হবে।

সংগঠনটি বলছে, শেয়ার বাইব্যাক, মার্জার ও অ্যাকুইজিশন বিষয়ে আধুনিক বিধিবিধান চালু করা গেলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট পুনর্গঠন সহজ হবে। পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর মূলধন ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে পুঁজিবাজারেও লেনদেন ও বিনিয়োগের গতি বাড়তে পারে।

ডিবিএর দৃষ্টিতে, একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু কোম্পানিগুলোই উপকৃত হবে না; বিনিয়োগকারীসহ পুঁজিবাজারের অন্যান্য অংশীজনের স্বার্থ সুরক্ষার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সংগঠনটি আশা করছে, সরকারের পুঁজিবাজার উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তাবিত কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর তৃতীয় সংশোধনীতে তাদের সুপারিশগুলো বিবেচনা করা হবে। এতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য শেয়ার বাইব্যাকের সুযোগ সৃষ্টি এবং মার্জার-অ্যাকুইজিশন প্রক্রিয়া সহজ করার প্রয়োজনীয় আইনি ভিত্তি তৈরি হবে বলে মনে করছে ডিবিএ।

সর্বশেষ