ঢাকা   বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

পিবি রেশিওর শর্ত বাদ, মার্জিন ঋণে বড় পরিবর্তন

পিবি রেশিওর শর্ত বাদ, মার্জিন ঋণে বড় পরিবর্তন

পুঁজিবাজারে মার্জিন ঋণের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন বিধিমালায় ব্যাংক ও নন-লাইফ বীমা কোম্পানির শেয়ারের ক্ষেত্রে প্রাইস-টু-বুক (পিবি) রেশিওর বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অধিকাংশ খাতের মার্জিন-যোগ্য শেয়ারের সর্বোচ্চ মূল্য-আয় অনুপাত (পিই) ৪০ নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিএসইসির নিয়মিত সভায় সংশোধিত মার্জিন ঋণ বিধিমালা অনুমোদন দেওয়া হয়। চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে ১৩ আগস্ট এটি গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য সরকারি মুদ্রণালয়ে পাঠানোর কথা রয়েছে।

নতুন কাঠামোতে মার্জিন সুবিধার যোগ্যতা যাচাইয়ে পিই রেশিওকে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড করা হয়েছে। ব্যাংক, নন-লাইফ বীমা এবং অন্যান্য খাতের ক্ষেত্রে কোনো শেয়ারের পিই ৪০-এর বেশি হলে সেটি মার্জিন ঋণের আওতায় আসবে না। তবে জীবনবীমা কোম্পানির শেয়ারে এই সীমা প্রযোজ্য হবে না।

এবার মার্জিনযোগ্য শেয়ারের পিই নির্ধারণে ট্রেইলিং পিই ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমান বাজারদরকে সর্বশেষ ১২ মাসের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দিয়ে হিসাব করা হবে। কোম্পানি নতুন ত্রৈমাসিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করলে সেই তথ্য অনুযায়ী পিই রেশিওও পুনর্নির্ধারণ করা হবে।

বাদ গেল পিবি রেশিও

চূড়ান্ত বিধিমালায় ব্যাংক ও নন-লাইফ বীমা কোম্পানির জন্য পিবি রেশিওর শর্ত আর রাখা হয়নি। অথচ খসড়ায় ব্যাংকের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ এবং বীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে ১ পিবি রেশিও নির্ধারণের প্রস্তাব ছিল।

খসড়া প্রকাশের পর এর প্রভাব কয়েকটি মার্জিন-যোগ্য শেয়ারের বাজারদরেও দেখা যায়। বাজারসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা ছিল, পিবি রেশিও কার্যকর হলে ধাপে ধাপে বিভিন্ন খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। চূড়ান্ত বিধিমালা থেকে শর্তটি বাদ পড়ায় সেই চাপ কিছুটা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

মার্জিন কলের সীমা বদল

বিনিয়োগকারীর ইক্যুইটি ৫০ শতাংশের নিচে নেমে গেলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে আগাম সতর্ক করতে হবে। তবে ইক্যুইটি ২৫ শতাংশের নিচে চলে গেলে কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই সংশ্লিষ্ট শেয়ার বা সিকিউরিটিজ বিক্রি করে ঋণ সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে।

খসড়া বিধিমালায় মার্জিন কলের সীমা ৭০ শতাংশ এবং জোরপূর্বক শেয়ার বিক্রির সীমা ৫০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব ছিল। চূড়ান্ত বিধিমালায় দুটি সীমাই কমিয়ে যথাক্রমে ৫০ শতাংশ ও ২৫ শতাংশ করা হয়েছে।

যেসব শেয়ারে মিলবে না মার্জিন

সব তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ নতুন সুবিধার আওতায় থাকবে না। ‘জেড’, ‘এন’ ও ‘জি’ ক্যাটাগরির শেয়ার ছাড়াও এসএমই, অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবি) এবং ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) বাজারের সিকিউরিটিজ মার্জিন ঋণের জন্য অযোগ্য থাকবে।

ফলে মূল বাজারের যোগ্য ‘এ’ ও ‘বি’ ক্যাটাগরির শেয়ারগুলোই প্রধানত এই সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রাখবে।

ঋণের অনুপাত ১:১

সাধারণ সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রে মার্জিন ঋণের অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছে ১:১। অর্থাৎ একজন বিনিয়োগকারী নিজস্ব এক লাখ টাকা ইক্যুইটি রাখলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সর্বোচ্চ আরও এক লাখ টাকা ঋণ নিতে পারবেন।

জীবনবীমা কোম্পানির শেয়ারের জন্য অবশ্য পৃথক মার্জিন কাঠামো রাখা হয়েছে।

বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব

নতুন নিয়ম কার্যকর হলে মার্জিন সুবিধা পাওয়ার যোগ্য শেয়ারের পরিধি বাড়তে পারে। বিশেষ করে পিবি রেশিওর শর্ত উঠে যাওয়ায় ব্যাংক ও নন-লাইফ বীমা খাতের কিছু শেয়ার নতুন করে এ সুবিধায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

এর ফলে বিনিয়োগকারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়লেও ঋণনির্ভর লেনদেন বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকবে। বাজারে বড় দরপতন হলে বিনিয়োগকারীর ইক্যুইটি দ্রুত কমে গিয়ে বাধ্যতামূলক শেয়ার বিক্রির চাপ তৈরি হতে পারে। একই সময়ে অনেক বিনিয়োগকারীকে শেয়ার বিক্রি করতে হলে বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তাই নতুন বিধিমালায় একদিকে মার্জিন সুবিধার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হয়েছে, অন্যদিকে পিই সীমা, ইক্যুইটির নির্দিষ্ট পর্যায় এবং অযোগ্য সিকিউরিটিজের তালিকার মাধ্যমে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।