ঢাকা   মঙ্গলবার ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩

দেশের প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু হতে পারে চলতি বছরই

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:১৪, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ

দেশের প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু হতে পারে চলতি বছরই

শেয়ারবাজারের পর দেশের আর্থিক খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের পথে এগোচ্ছে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ। প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন মিললে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই দেশের প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করতে প্রস্তুত রয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।

রোববার (১৪ জুন) সিএসইর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম শফিকুর রহমান মজুমদার।

তিনি বলেন, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি বাজারসংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি ও ধারণা বিনিময়ের কার্যক্রমও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সিএসইর এমডি বলেন, সরকারের নীতিগত সমর্থন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক অবস্থানের কারণে এখন কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর পথ অনেকটাই সুগম হয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় বাজেটেও কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা দীর্ঘদিনের একটি বড় নীতিগত বাধা দূর করেছে।

তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্রোকার ও পণ্যের অনুমোদন পাওয়া গেলে তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। সিএসই আশা করছে, চলতি বছরের মধ্যেই দেশের প্রথম কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করা যাবে।

শুরুতে থাকবে ফিউচারস চুক্তিভিত্তিক লেনদেন

সিএসই জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে কমোডিটি এক্সচেঞ্জটি সরাসরি পণ্য কেনাবেচার বাজার হিসেবে নয়, বরং ডেরিভেটিভস বা ফিউচারস চুক্তিভিত্তিক বাজার হিসেবে পরিচালিত হবে।

শফিকুর রহমান মজুমদার বলেন, অনেকের ধারণা কমোডিটি এক্সচেঞ্জ মানেই পণ্যের সরাসরি ডেলিভারি। বাস্তবে এটি স্পট মার্কেট এবং ডেরিভেটিভস মার্কেট—এই দুই ধরনের হতে পারে। শুরুতে ডেরিভেটিভস মার্কেটের মাধ্যমে সোনা, রুপা ও ক্রুড পাম অয়েলের ফিউচারস চুক্তি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

তার মতে, এসব পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্য সহজলভ্য এবং বৈশ্বিক বাজারে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য হওয়ায় এগুলো দিয়ে কার্যক্রম শুরু করা তুলনামূলক সহজ হবে।

মূল্য নির্ধারণ ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় নতুন সুযোগ

সিএসইর কর্মকর্তারা মনে করেন, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু হলে বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও উৎপাদকরা স্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং হেজিং সুবিধা পাবেন।

ফিউচারস বাজারে অংশগ্রহণকারীরা নির্দিষ্ট মার্জিন জমা দিয়ে চুক্তিতে অংশ নেন এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিদিনের মূল্য পরিবর্তনের সঙ্গে ঝুঁকি সমন্বয় করা হয়।

শফিকুর রহমান বলেন, এ প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য হবে স্বচ্ছ মূল্য আবিষ্কার (প্রাইস ডিসকভারি), বাজারের ঝুঁকি হ্রাস এবং কার্যকর মূল্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।

ভবিষ্যতে যুক্ত হতে পারে কৃষিপণ্য

সিএসই জানিয়েছে, প্রাথমিক কার্যক্রম সফল হলে পর্যায়ক্রমে চাল, গমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যও কমোডিটি এক্সচেঞ্জে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

এ বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, কৃষিপণ্য অন্তর্ভুক্ত হলে কৃষকরা আগাম মূল্য নির্ধারণ করে রাখতে পারবেন। এতে ফসল সংগ্রহের পর কম দামে বিক্রি করার চাপ কমবে এবং মূল্যঝুঁকি মোকাবিলা সহজ হবে।

তিনি জানান, নতুন কোনো পণ্য অন্তর্ভুক্তির আগে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নেওয়া হবে, যাতে বাজারে স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য বজায় থাকে।

কৃষকদের জন্যও নতুন সম্ভাবনা

সিএসইর পরিচালক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, একটি কার্যকর কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কৃষকদের দরকষাকষির সক্ষমতা বাড়াতে এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্য অস্থিরতা কমানো, সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাজারের দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও কমোডিটি এক্সচেঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

তার মতে, ১৮ কোটি মানুষের দেশে একটি আধুনিক ও স্বচ্ছ বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে সঠিক মূল্য নির্ধারণ এবং ভবিষ্যৎ মূল্য সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। সরকারের নীতিগত সহায়তা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ দেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।

সর্বশেষ