ঢাকা   রোববার ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাজেটে পুঁজিবাজারবান্ধব উদ্যোগে আশাবাদী ডিবিএ

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৫৫, ১৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ

বাজেটে পুঁজিবাজারবান্ধব উদ্যোগে আশাবাদী ডিবিএ

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে শেয়ারবাজার উন্নয়ন ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। সংগঠনটির মতে, বাজেটে অন্তর্ভুক্ত সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলো দেশের পুঁজিবাজারকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলতে সহায়ক হবে।

ডিবিএর পক্ষ থেকে পাঠানো এক বার্তায় সংগঠনটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান।

একইসঙ্গে দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠন, পুঁজিবাজার সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বিএনপি সরকারের প্রতিও অভিনন্দন জানায় সংগঠনটি।

সাইফুল ইসলাম বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ অর্থায়নের স্বার্থে একটি শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও আস্থাভিত্তিক শেয়ারবাজার গড়ে তোলার যে প্রতিশ্রুতি এবারের বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে, তা পুঁজিবাজারের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে শেয়ারবাজারকে প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট নীতিগত ঘোষণা ডিবিএ সন্তোষের সঙ্গে গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রক কাঠামো আরও শক্তিশালী করা, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা, বাজারে সুশাসন ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারের উদ্যোগগুলো বাজারের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

ডিবিএ সভাপতি আরও বলেন, বন্ড বাজার সম্প্রসারণ, করপোরেট বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন বন্ড ও সুকুকের উন্নয়নে অগ্রাধিকার প্রদান, সম্ভাবনাময় কোম্পানির তালিকাভুক্তি সহজ করতে লিস্টিং প্রক্রিয়া সরলীকরণ এবং তথ্য প্রকাশ ও রিপোর্টিং ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব করার পরিকল্পনা পুঁজিবাজারের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি মনে করেন, করপোরেট বন্ড বাজারের পাশাপাশি মিউনিসিপ্যাল বন্ড চালুর উদ্যোগ, ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের পরিবর্তে ইক্যুইটি-ভিত্তিক অর্থায়নকে উৎসাহিত করার সিদ্ধান্ত এবং বেসরকারি খাতনির্ভর বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিকল্পনা দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।

সাইফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আস্থার সংকট, সীমিত বিনিয়োগ পণ্য এবং ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের কারণে দেশের পুঁজিবাজার প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে পারেনি। তবে এবারের বাজেটে শেয়ারবাজারকে অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে নতুন উদ্যোক্তাদের মূলধন সংগ্রহ সহজ হবে এবং শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সম্প্রসারিত হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের ঘোষিত সংস্কার কর্মসূচিগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার একটি আধুনিক, গভীরতা-সম্পন্ন ও আস্থাভিত্তিক বাজারে পরিণত হবে এবং জাতীয় অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ হাউস, তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে ডিবিএ সভাপতি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই দেশের শেয়ারবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের একটি শক্তিশালী বাজারে উন্নীত করা সম্ভব।

সর্বশেষ