শেয়ারবাজারের বহুল আলোচিত দুই কোম্পানি—ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ও বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ার থেকে ফ্লোর প্রাইস (সর্বনিম্ন মূল্যসীমা) প্রত্যাহারের পর দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী চিত্র। একই সিদ্ধান্তের পর ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হলেও বেক্সিমকোর শেয়ার পড়েছে তীব্র বিক্রয়চাপে।
গত সপ্তাহের মঙ্গলবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকোর শেয়ারের ওপর আরোপিত ফ্লোর প্রাইস তুলে নেয়। এর মাধ্যমে দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সব কোম্পানিই ফ্লোর প্রাইসমুক্ত হয়।
ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর প্রথম কয়েক কার্যদিবসে দুটি শেয়ারেই বিক্রয়চাপ লক্ষ্য করা গেলেও পর্যাপ্ত ক্রেতার উপস্থিতি ছিল না। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ফ্লোর প্রাইসের কারণে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ বিক্রয় আদেশ একসঙ্গে বাজারে আসায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়তে শুরু করে। বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারে ক্রেতা ও বিক্রেতার উপস্থিতি প্রায় সমান পর্যায়ে চলে আসে, যা বাজারে ইতিবাচক আস্থার ইঙ্গিত দেয়।
রোববার (১৪ জুন) নতুন সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে দুই কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে ব্যবধান আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বেক্সিমকোর শেয়ারে বিপুল সংখ্যক বিক্রয় আদেশ থাকলেও কার্যত কোনো ক্রেতা ছিল না। অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারে ক্রয় আদেশের চাপ এতটাই বেশি ছিল যে বিক্রেতার সংকট দেখা দেয়।
ফলে উভয় কোম্পানির শেয়ারই সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সীমায় পৌঁছায়, তবে বিপরীতমুখী অবস্থানে। বেক্সিমকোর শেয়ারদর প্রায় ১০ শতাংশ বা ৮ টাকা কমে ৭২ টাকা ৩০ পয়সায় নেমে আসে। বিপরীতে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারদর প্রায় ১০ শতাংশ বা ২ টাকা ৯০ পয়সা বেড়ে ৩২ টাকায় উন্নীত হয়।
হল্টেড (বায়ারলেস বা সেলারলেস) অবস্থায় যাওয়ার আগে দুই শেয়ারেই কিছু লেনদেন সম্পন্ন হয়। এর মধ্যে বেক্সিমকোর শেয়ারে ৫৭টি লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার শেয়ার হাতবদল হয়। অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারে ৩৯০টি লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ৮৫ লাখ ১০ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর বিনিয়োগকারীদের আস্থা, কোম্পানির মৌলভিত্তি এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার প্রতিফলন এখন শেয়ারদরে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে যেখানে ক্রয়চাপ বাড়ছে, সেখানে বেক্সিমকোর শেয়ারে বিক্রয়চাপ অব্যাহত থাকায় দুই কোম্পানির শেয়ার বিপরীত দুই মেরুতে অবস্থান করছে।
























