ঢাকা   শনিবার ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ম্যাচের আগে ব্রাজিলের ড্রেসিংরুমে কী হয়? জানালেন আনচেলত্তির সহকারী

খেলার জগৎ

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২১:৪৭, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ

ম্যাচের আগে ব্রাজিলের ড্রেসিংরুমে কী হয়? জানালেন আনচেলত্তির সহকারী

ফুটবলপ্রেমীরা সাধারণত মাঠের ৯০ মিনিটের লড়াইটাই দেখেন। কিন্তু ম্যাচ শুরুর আগে ড্রেসিংরুমের ভেতরে কী ঘটে, ফুটবলাররা কীভাবে নিজেদের প্রস্তুত করেন—সেসব নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। এবার সেই অজানা গল্পই সামনে এনেছেন ব্রাজিল জাতীয় দলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির সহকারী পল ক্লেমেন্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর আগে ‘দ্য অ্যাথলেটিক’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্লেমেন্ট জানিয়েছেন, ম্যাচের আগে সেলেসাওদের ড্রেসিংরুমে থাকে এক অনন্য পরিবেশ, যেখানে ফুটবল, সঙ্গীত, মনোযোগ ও আধ্যাত্মিকতা একসঙ্গে মিশে যায়।

ক্লেমেন্টের বর্ণনায়, ম্যাচের আগে ব্রাজিলের ড্রেসিংরুম যেন কোনো বিশ্বমানের ফুটবল বিজ্ঞাপনের দৃশ্য। কেউ বল নিয়ে কিপ-আপ করছেন, কেউ হেডফোন কানে দিয়ে গান শুনছেন, কেউ স্ট্রেচিং করছেন, আবার কেউ শেষ মুহূর্তের চিকিৎসা বা ফিটনেস সেশন সম্পন্ন করছেন। অনেকেই আবার নিজের মধ্যে ডুবে থেকে ম্যাচের জন্য মানসিক প্রস্তুতি নেন।

এই পুরো সময়জুড়ে ড্রেসিংরুমে বাজতে থাকে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত, যা খেলোয়াড়দের স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস জোগাতে সাহায্য করে।

তবে সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে মাঠে নামার ঠিক আগে। তখন ধীরে ধীরে থেমে যায় গান, কমে যায় কথাবার্তা। পুরো দল একত্রিত হয়ে প্রার্থনায় অংশ নেয়।

ক্লেমেন্ট বলেন, “সেই মুহূর্তে অত্যন্ত ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক একটি পরিবেশ তৈরি হয়। ম্যাচের আগে ও পরে খেলোয়াড়রা একসঙ্গে প্রার্থনা করেন। সাধারণত অধিনায়ক, কোনো জ্যেষ্ঠ খেলোয়াড়, কোচ কিংবা ফেডারেশনের প্রতিনিধি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।”

তার মতে, এই ঐতিহ্য শুধু ধর্মীয় অনুভূতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি দলের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধন আরও দৃঢ় করে।

ব্রাজিল দলের শক্তির জায়গা হিসেবে ক্লেমেন্ট বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে। মার্কিনিওস, আলিসন, কাসেমিরো ও দানিলোর মতো সিনিয়র খেলোয়াড়দের তিনি দলের মেরুদণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

তিনি বলেন, “এই দলের সবচেয়ে ভালো দিক হলো শক্তিশালী নেতৃত্ব। জাতীয় দলের হয়ে দীর্ঘদিন খেলা ফুটবলারদের প্রতি সবার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। তরুণরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ও অর্জনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়।”

এই পারস্পরিক সম্মান ও শৃঙ্খলাই দলের ভেতরে একটি কার্যকর নেতৃত্ব কাঠামো তৈরি করেছে, যা বিভিন্ন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের একসঙ্গে এগিয়ে যেতে সহায়তা করছে।

এদিকে, তারকাখচিত ব্রাজিল দলকে সঠিকভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির অভিজ্ঞতাকেও বড় সম্পদ হিসেবে দেখছেন ক্লেমেন্ট। চেলসি, পিএসজি, বায়ার্ন মিউনিখ ও রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে অসংখ্য বিশ্বতারকার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে ইতালিয়ান এই কোচের।

ক্লেমেন্টের ভাষায়, “কার্লো কখনো সংঘাতে বিশ্বাস করেন না। তিনি খেলোয়াড়দের ভেতর থেকে সেরাটা বের করে আনতে জানেন। কঠিন ড্রেসিংরুমও তিনি সহজেই সামাল দিতে পারেন।”

দীর্ঘ প্রায় আড়াই দশকের বিশ্বকাপ শিরোপা-খরা কাটানোর স্বপ্নে বিভোর ব্রাজিল এখন নতুন আশায় উজ্জীবিত। আর সেই স্বপ্ন পূরণের পথে ড্রেসিংরুমের প্রার্থনা, ঐক্য ও নেতৃত্বই হতে পারে সেলেসাওদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

সর্বশেষ