ব্র্যান্ডের নামে প্রতারণা: নকল পণ্য ও অনুমোদনহীন খাদ্য বিক্রি, ৭ প্রতিষ্ঠানকে ১৪.৮০ লাখ টাকা জরিমানা
বাজারে পরিচিত ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে নিম্নমানের পণ্য বিক্রি, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ছাড়াই পশু ও মাছের খাদ্য উৎপাদন এবং অনুমোদন ছাড়া বিভিন্ন খাদ্যপণ্য বাজারজাত করার অভিযোগে সাতটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। অভিযানে এসিআই গোদরেজ ও আফতাব ফিডসহ সাতটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা এবং পাশের জেলা নারায়ণগঞ্জে বিএসটিআই পরিচালিত তিনটি পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এসব অনিয়ম ধরা পড়ে।
বিএসটিআই জানায়, দিনব্যাপী পরিচালিত এই অভিযানে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, ঢাকার বসিলা এবং হাজারীবাগ এলাকায় একযোগে তদারকি চালানো হয়। প্রতিটি স্থানে বিভিন্ন ধরনের আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রূপগঞ্জ এলাকায় পরিচালিত অভিযানে দেখা যায়, এসিআই গোদরেজ অ্যাগ্রোভেট প্রাইভেট লিমিটেড এবং আফতাব ফিড প্রোডাক্টস লিমিটেড প্রয়োজনীয় বিএসটিআই মানসনদ ও মোড়কজাতকরণ নিবন্ধন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে পোল্ট্রি ও মাছের খাদ্য উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহ করে আসছিল।
সহজভাবে বিষয়টি বুঝতে একটি উদাহরণ দেওয়া যায়। ধরুন, কোনো ওষুধ বাজারে আনার আগে যেমন পরীক্ষাগারে পরীক্ষা ও সরকারি অনুমোদন প্রয়োজন হয়, তেমনি পশু বা মাছের খাদ্যের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট মান নিশ্চিত করতে পরীক্ষাগার যাচাই ও বিএসটিআইয়ের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। এই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করলে খাদ্যের মান নিয়ে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এসব অপরাধের দায়ে বিএসটিআই আইন-২০১৮ এবং ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন-২০১৮ অনুযায়ী দুটি প্রতিষ্ঠানকেই ৪ লাখ টাকা করে মোট ৮ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
একই এলাকায় আরও একটি প্রতিষ্ঠান জিউজৌ ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড বিএসটিআইয়ের মানসনদ ছাড়াই লেড-অ্যাসিড স্টার্টার ব্যাটারি উৎপাদন করছিল। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে দুই আইনের আওতায় মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে রাজধানীর বসিলায় অভিযান চালিয়ে আরও একটি বড় ধরনের প্রতারণার তথ্য পাওয়া যায়। আমান কনজ্যুমার অ্যান্ড টয়লেট্রিজ এবং স্ট্যান্ডার্ড কনজ্যুমার অ্যান্ড টয়লেট্রিজ নামের দুটি প্রতিষ্ঠান বাজারের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড লাইজল, হারপিক ও ভিম-এর নামের সঙ্গে মিল রেখে হ্যান্ডওয়াশ ও তরল টয়লেট ক্লিনার তৈরি ও বিক্রি করছিল।
সহজভাবে বলতে গেলে, এটি অনেকটা এমন যে, কেউ বিখ্যাত একটি মোবাইল ফোন কোম্পানির লোগোর মতো দেখতে লোগো ব্যবহার করে নিম্নমানের ফোন বিক্রি করছে। বাইরে থেকে দেখে ক্রেতা সহজেই বিভ্রান্ত হতে পারেন এবং আসল পণ্য ভেবে নকল পণ্য কিনে ফেলতে পারেন।
এই প্রতারণার দায়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মিলিয়ে মোট ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
হাজারীবাগ এলাকায় পরিচালিত আরেকটি অভিযানে দেখা যায়, মিঠাই নামের একটি শোরুম বিএসটিআইয়ের মানসনদ ছাড়াই মিষ্টি, বিস্কুট ও লাচ্ছা সেমাই বিক্রি করছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া অপূর্ব আনন্দ জল খাবার নামের একটি প্রতিষ্ঠান বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই মিষ্টি ও দই বাজারজাত করছিল। এই অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বিএসটিআই জানায়, রূপগঞ্জে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাবেকুন নাহার, বসিলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন্নেসা খানম এবং হাজারীবাগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুল ইসলাম পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন।
অভিযানে বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক কে এম হানিফ, সহকারী পরিচালক (মেট্রোলজি) মো. রাকিবুল আলম এবং ফিল্ড অফিসার মো. রাশেদ আল মামুন, বোরহান উদ্দিন ও সুমাইয়া আফরোজ লিজাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএসটিআই জানিয়েছে, ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারে মানসম্মত ও নিরাপদ পণ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।

রূপগঞ্জ এলাকায় পরিচালিত অভিযানে দেখা যায়, এসিআই গোদরেজ অ্যাগ্রোভেট প্রাইভেট লিমিটেড এবং আফতাব ফিড প্রোডাক্টস লিমিটেড প্রয়োজনীয় বিএসটিআই মানসনদ ও মোড়কজাতকরণ নিবন্ধন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে পোল্ট্রি ও মাছের খাদ্য উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহ করে আসছিল।

























