ঢাকা   মঙ্গলবার ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

সম্পদের হিসাব না দেওয়ায় সাবেক ডেপুটি গভর্নর এসকে সুরের তিন বছরের সাজা

অর্থ ও বাণিজ্য

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:২৮, ২৮ জুলাই ২০২৬

সম্পদের হিসাব না দেওয়ায় সাবেক ডেপুটি গভর্নর এসকে সুরের তিন বছরের সাজা

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী, যিনি এসকে সুর নামে পরিচিত, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা না দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক আয়েশা নাসরিন এই রায় দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের প্রসিকিউটর এস. এম. আবুল কালাম (আজাদ)।

এর আগে মামলার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে আদালত ১৫ জুলাই রায় ঘোষণার জন্য ২৮ জুলাই দিন নির্ধারণ করেছিলেন।

চূড়ান্ত শুনানিতে দুদকের পক্ষ থেকে এসকে সুরের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের আবেদন জানানো হয়। অন্যদিকে, তার আইনজীবী সরোজ কুমার হাওলাদার অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এসকে সুরকে তার নিজের এবং তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে বা বেনামে থাকা সব ধরনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা, আয়ের উৎস এবং সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত তথ্য দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর তিনি নিজেই স্বাক্ষর করে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ ও সংশ্লিষ্ট ফরম গ্রহণ করেন। তবে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সেই বিবরণী জমা দেননি।

সময়সীমা অতিক্রম করেও সম্পদের হিসাব জমা না দেওয়ায় ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন এসকে সুর, তার স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরী এবং কন্যা নন্দিতা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তীতে গত বছরের ২৫ আগস্ট দুদকের উপপরিচালক মো. আহসান উদ্দিন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই বছরের ৬ নভেম্বর আদালত এসকে সুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর নির্দেশ দেন।

বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে আদালতে মোট সাতজন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন, যার ভিত্তিতে মামলার শুনানি সম্পন্ন হয়।

এরও আগে, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে দুদক সাবেক এই কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।