ঢাকা   সোমবার ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

রাবিতে সাংবাদিক হামলা, অঙ্গসংগঠন নিয়ন্ত্রণে টিআইবির আহ্বান

রাজনীতি

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২২:৩৫, ৫ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

রাবিতে সাংবাদিক হামলা, অঙ্গসংগঠন নিয়ন্ত্রণে টিআইবির আহ্বান

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলায় জড়িতদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে সহিংসতা বন্ধে নিজ নিজ দল ও অঙ্গসংগঠনকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানায় টিআইবি। এর আগে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।

রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে তদন্তের দাবি

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, হামলায় আহত গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর মতে, হামলাকারী, সহযোগী ও পৃষ্ঠপোষকদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে হবে।

একই সঙ্গে আহতদের যথাযথ চিকিৎসা, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহিও নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

টিআইবির বক্তব্য অনুযায়ী, সাংবাদিকদের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়; এটি জনগণের তথ্য জানার অধিকার ও ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির সুযোগকেও বাধাগ্রস্ত করে।

বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান

টিআইবি বলেছে, ক্যাম্পাসে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা বন্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব সংগঠন ও অঙ্গসংগঠনের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু তদন্ত কমিটি গঠন বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যে দায়িত্ব সীমাবদ্ধ না রেখে সহিংসতার প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে।

একই সঙ্গে অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার উপযোগী পরিবেশ তৈরি এবং দলীয় সিদ্ধান্ত ও আচরণে গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন

টিআইবি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। সংস্থাটির মতে, হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান এবং দায় নির্ধারণ জরুরি।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করার উদ্যোগ নেয় এবং পরে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই ঘটনায় মতিহার থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হয়েছে।

টিআইবির দাবি, রাজনৈতিক চাপ বা অসহায়ত্বের কথা বলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়।

শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচারের অধিকার সুরক্ষার দাবি

শুধু সাংবাদিক নয়, হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার চাওয়ার অধিকারও সুরক্ষিত রাখার দাবি জানিয়েছে টিআইবি।

সংস্থাটি বলেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষক বা প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিয়মতান্ত্রিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তবে কোনো দাবি আদায়ে ভয়ভীতি, দলীয় প্রভাব বা বলপ্রয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়।

টিআইবির মতে, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হওয়া উচিত আইন ও বিধি অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক শক্তির প্রভাবের ভিত্তিতে নয়।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনা ঘিরে একদিকে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও দায়িত্ব পালনের পরিবেশ, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা—সবকিছুই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

টিআইবির বক্তব্যের মূল বিষয় হলো, অপরাধের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের কোনো সুরক্ষাকবচ থাকা উচিত নয়। একই সঙ্গে তদন্ত, মামলা বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা যেন শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে প্রকৃত জবাবদিহিতে রূপ নেয়, সেটিই নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।

সর্বশেষ