ঢাকা   বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ন্যাশনাল ব্যাংকের আমানত ফেরাতে সোনালী ব্যাংকের ৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ

অর্থ ও বাণিজ্য

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২০:৩৫, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

আপডেট: ২১:০৭, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

সর্বশেষ

ন্যাশনাল ব্যাংকের আমানত ফেরাতে সোনালী ব্যাংকের ৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ন্যাশনাল ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক থেকে ৭ হাজার কোটি টাকার ঋণ সহায়তা নেওয়ার উদ্যোগ চূড়ান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনে দেওয়া এই ঋণের মাধ্যমে ব্যাংকটির তারল্যসংকট কাটিয়ে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলনের সুযোগ স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে এই বিপুল অঙ্কের ঋণ পরিশোধ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, ন্যাশনাল ব্যাংকের তীব্র নগদ অর্থসংকট এবং আমানতকারীদের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে সোনালী ব্যাংক থেকে ঋণ দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার পরিস্থিতি তৈরি হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শওকত আলী খানও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ন্যাশনাল ব্যাংকের আমানতকারীদের বকেয়া অর্থ পরিশোধ সহজ করতে ৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যাংকটির নগদ অর্থের সংকট মোকাবিলা এবং গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের উপস্থিতিতে ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়, যেসব গ্রাহক তাঁদের আমানত উত্তোলন করতে চাইবেন, তাঁদের কোনোভাবেই খালি হাতে ফেরত পাঠানো যাবে না। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকের আর্থিক সংকট থাকলেও গ্রাহকদের ব্যক্তিগত প্রয়োজন উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। কোনো অজুহাতে তাঁদের অর্থ পরিশোধে গড়িমসি করা যাবে না। প্রয়োজনে অন্য উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ করেও আমানতকারীদের পাওনা পরিশোধ করতে হবে।

তিনি আরও জানান, অতীতে বিভিন্ন ব্যাংকে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা কর্মকর্তাদের স্বজনদের অগ্রাধিকার দিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছিল। ন্যাশনাল ব্যাংকের ক্ষেত্রে এমন বৈষম্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। সব গ্রাহককে সমানভাবে তাঁদের অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দিতে হবে।

এদিকে, অন্য ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নিয়ে আমানতকারীদের অর্থ পরিশোধের পরিকল্পনা ব্যাংকটির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকটে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংককে একদিকে গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে হবে, অন্যদিকে নতুন ঋণের অর্থ নির্ধারিত সময়ে পরিশোধের সক্ষমতাও নিশ্চিত করতে হবে।

ব্যাংকটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে স্বাভাবিক লেনদেন চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত ১১ অক্টোবর থেকেই বিভিন্ন শাখায় গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলনের লিখিত আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গ্রাহকেরা শাখার কাউন্টারের পাশাপাশি এটিএম বুথ, মোবাইল অ্যাপ এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেও অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। তবে সব গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত নগদ অর্থের জোগান নিশ্চিত করাই হবে ব্যাংকটির জন্য বড় পরীক্ষা।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সাময়িকভাবে আমানতকারীদের চাপ সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে ন্যাশনাল ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে খেলাপি ঋণ আদায়, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং নিজস্ব তহবিলের ভিত্তি শক্তিশালী করা জরুরি। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর অগ্রগতি না হলে নতুন ঋণের বোঝা ব্যাংকটির আর্থিক ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

সর্বশেষ