ঢাকা   রোববার ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ব্যাংকের এক-তৃতীয়াংশ তহবিল লুট, বললেন গভর্নর

অর্থ ও বাণিজ্য

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৫:২৬, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ব্যাংকের এক-তৃতীয়াংশ তহবিল লুট, বললেন গভর্নর

দেশের ব্যাংক খাতে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, অর্থপাচার ও কাঠামোগত ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আগামী পাঁচ থেকে আট বছর পর্যন্ত প্রতিবছর জাতীয় বাজেট থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট তহবিলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ লুট হয়ে গিয়েছিল।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) ওয়ান ব্যাংক আয়োজিত বাংলা কিউআর লেনদেনের প্রচার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গভর্নর বলেন, ব্যাংক খাত থেকে লুট হওয়া বিপুল অর্থ দিয়ে দেশের দুই কোটি পরিবারকে সহায়তা দেওয়া সম্ভব ছিল। এমনকি পদ্মা সেতুর মতো দুটি বড় অবকাঠামো প্রকল্পও নির্মাণ করা যেত। তাঁর মতে, ব্যাংক খাতে তারল্য সংকট সৃষ্টির পেছনে দায়ীদের কর্মকাণ্ডের ব্যাপকতা বোঝাতে প্রচলিত শব্দও যথেষ্ট নয়।

তিনি আরও বলেন, একটি গোষ্ঠী জনগণের অর্থ লুট করেছে। ঘটনাটিকে কেবল চুরি বললে এর ব্যাপকতা বোঝানো যায় না। আর্থিক অনিয়ম ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং আত্মসাৎ করা সম্পদ ফিরিয়ে আনতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

ব্যাংক খাত পুনরুদ্ধারে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন

গভর্নরের বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাতের আর্থিক অনিয়ম ও কাঠামোগত ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আগামী পাঁচ থেকে আট বছর পর্যন্ত প্রতিবছর ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এ অর্থ জাতীয় বাজেট থেকে জোগান দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তবে এই পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের অর্থায়ন কীভাবে হবে, কোন কোন খাতে অর্থ ব্যয় করা হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়নি।

ইউআইইউতে বাংলা কিউআর পেমেন্ট চালু

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নগদ অর্থের ব্যবহার কমানো এবং তরুণদের ডিজিটাল লেনদেনে উৎসাহিত করতে বাংলা কিউআর পেমেন্ট সেবা চালু করেছে ওয়ান ব্যাংক পিএলসি। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেন করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমান বলেন, দৈনন্দিন জীবনে আর্থিক সেবা যত সহজ ও সহজলভ্য হবে, ডিজিটাল রূপান্তর তত বেশি কার্যকর হবে। ইউআইইউতে বাংলা কিউআর চালুর ফলে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটাল পেমেন্টের লক্ষ্য বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যতের লেনদেনব্যবস্থা গড়ে তুলতে তরুণদের সম্পৃক্ত করার অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়টির সঙ্গে কাজ করতে পেরে ওয়ান ব্যাংক আনন্দিত বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ইউআইইউর উপাচার্য মো. আবুল কাশেম মিঞাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০০ জনের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ডিজিটাল পেমেন্ট, আর্থিক উদ্ভাবন ও দেশের ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিনিময় করেন গভর্নর।

পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলা কিউআর উদ্যোগ ও দেশের ডিজিটাল পেমেন্টব্যবস্থার বিকাশে এর ভূমিকা নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আউটলেটে নগদবিহীন লেনদেনব্যবস্থাও চালু করা হয়।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, ওয়ান ব্যাংক ও ইউআইইউর এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল লেনদেন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াবে এবং ক্যাম্পাসে আধুনিক পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যবহার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।