কিছু মানুষ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাচ্ছে এবং এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আইন সবার জন্য সমান—এ নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেনীর পরশুরামের ঘাটঘর-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ২০ কোটি মানুষের দেশ। এখানে ভালো-মন্দ সব ধরনের মানুষ রয়েছে। কিছু দুষ্টু মানুষ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাচ্ছে। জনগণ বিএনপিকে দায়িত্ব দেওয়ায় সরকার সর্বশক্তি দিয়ে আইন সবার জন্য সমান করার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করবে বলে জানান তিনি।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি পরিবর্তন করে ধীরে ধীরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। একই সঙ্গে কিছু রাজনৈতিক দল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
একটি রাজনৈতিক দলের নেতাদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা অন্যদের নসিহত করছেন, তাদের আগে নিজেদের দলের কর্মকাণ্ডের দিকে নজর দেওয়া উচিত। তিনি ওই দলের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে নারীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের প্রসঙ্গও তোলেন। তবে এসব বিষয়ে তদন্ত চলমান থাকায় বিস্তারিত মন্তব্য না করার কথা জানান তিনি।
জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর একটি রাজনৈতিক দল কিছু আসনে জয় পাওয়ার পর নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে বলে তিনি মনে করেন। একই সঙ্গে ১৯৭১ সালে দলটির ভূমিকা নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি।
ফেনীর রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, গত ১৭ বছরে এ অঞ্চলের বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এখন গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রাখা এবং অরাজকতা ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে জবাব দেওয়ার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। প্রকল্পটির আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাশয় পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন ও ৭৭টি ইনলেট নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রকল্পের সুফল তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুহুরী ও কহুয়া নদী পুনঃখননের ফলে এ অঞ্চলের প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষ উপকৃত হবে। প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং কৃষি উৎপাদনও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। উৎপাদন বাড়লে কৃষকের আয় এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
কৃষকদের সহায়তার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। এতে সরকারের প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে এবং দেশের প্রায় ১৩ লাখ কৃষক এর সুবিধা পেয়েছেন বলে তিনি জানান।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের গ্রাম ও শহরের পরিবারগুলোর মায়েদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফেনী থেকে এ কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। এর লক্ষ্য খেটে খাওয়া পরিবারের নারীদের ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে তোলা। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা, ডায়ালাইসিস, শিশু ও মাতৃসেবা আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্য রয়েছে।
ফেনী সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজেও যান। সেখানে তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করলে কলেজটিকে জাতীয়করণের আশ্বাস দেওয়ার কথাও প্রতিবেদনে এসেছে।
























