ঢাকা   শনিবার ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

ডিভিডেন্ড না দেওয়ায় ৯ কোম্পানির বিরুদ্ধে বিএসইসির কঠোর ব্যবস্থা

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:৩৬, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ডিভিডেন্ড না দেওয়ায় ৯ কোম্পানির বিরুদ্ধে বিএসইসির কঠোর ব্যবস্থা

২০২৫ অর্থবছরের ঘোষিত ক্যাশ ডিভিডেন্ড শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে সম্পূর্ণ বিতরণ না করায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৯টি কোম্পানির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে ক্যাশ ডিভিডেন্ড বিতরণ এবং স্বতন্ত্র পরিচালক পুনর্নিয়োগের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

শাস্তির আওতায় আসা ৯টি কোম্পানির মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত ৫টি এবং এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্ত ৪টি কোম্পানি রয়েছে।

মূল বোর্ডের কোম্পানিগুলো হলো—আফতাব অটোমোবাইলস, নাভানা সিএনজি, ফরচুন শুজ, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন এবং অ্যাডভেন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, আফতাব অটোমোবাইলস ঘোষিত ক্যাশ ডিভিডেন্ডের মাত্র ১৪ দশমিক ১১ শতাংশ, নাভানা সিএনজি ১৮ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং অ্যাডভেন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস ৫০ দশমিক ২২ শতাংশ বিতরণ করেছে। অন্যদিকে, ফরচুন শুজ ও ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন ডিভিডেন্ড ঘোষণা করলেও শেয়ারহোল্ডারদের কোনো অর্থ পরিশোধ করেনি।

এসএমই বোর্ডের চার কোম্পানি হলো—মাস্টার ফিড এগ্রোটেক, কৃষিবিদ সিড, বিডি পেইন্টস এবং কৃষিবিদ ফিড। এর মধ্যে মাস্টার ফিড এগ্রোটেক ঘোষিত ডিভিডেন্ডের মাত্র ২৬ দশমিক ১৯ শতাংশ বিতরণ করেছে। বাকি তিনটি কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ডিভিডেন্ড পরিশোধ করেনি।

বিদ্যমান সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী, ক্যাশ ডিভিডেন্ড অনুমোদনের জন্য আয়োজিত বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) অন্তত এক দিন আগে ঘোষিত সম্পূর্ণ ডিভিডেন্ডের অর্থ পৃথক ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করতে হয়। এরপর ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত সনদ এজিএমে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ও কোম্পানি সচিবের সত্যায়নসহ সংশ্লিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই ৯টি কোম্পানি নির্ধারিত নিয়ম যথাযথভাবে পালন করেনি।

বিএসইসির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, আইন লঙ্ঘনের দায়ে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিশনের সভায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ডিভিডেন্ড বিতরণের নিয়মে পরিবর্তন

ক্যাশ ডিভিডেন্ড বিতরণে অনিয়ম বন্ধ করতে বিদ্যমান নিয়ম সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এজিএমে ডিভিডেন্ডের প্রস্তাব উত্থাপনের আগেই ঘোষিত লভ্যাংশের সম্পূর্ণ অর্থ পৃথক ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংক সনদও সংগ্রহ করতে হবে।

বিএসইসির মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে কোনো কোম্পানি এজিএমে ক্যাশ ডিভিডেন্ডসংক্রান্ত কোনো এজেন্ডা উত্থাপন করতে পারবে না।

স্বতন্ত্র পরিচালক পুনর্নিয়োগেও নতুন নিয়ম

একই সভায় করপোরেট গভর্নেন্স কোড, ২০১৮-এর আওতায় তালিকাভুক্ত কোম্পানির স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে হালনাগাদ ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) ক্লিয়ারেন্স রিপোর্ট পাওয়ার শর্তে স্বতন্ত্র পরিচালকদের পুনর্নিয়োগ অনুমোদন করা হবে।

বিএসইসির মুখপাত্র জানান, হালনাগাদ সিআইবি রিপোর্টের ভিত্তিতে কোনো স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হলে কমিশনকে আর আলাদাভাবে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করতে হবে না।

এ ছাড়া যোগ্যতাসংক্রান্ত কোনো বিষয়ে আগে ছাড় পাওয়া স্বতন্ত্র পরিচালককে একই বা অন্য কোনো তালিকাভুক্ত কোম্পানিতে পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন করে বিএসইসির ছাড়পত্র নিতে হবে না।

বিএসইসির এসব সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো ডিভিডেন্ড বিতরণে অনিয়ম রোধ, শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর করপোরেট গভর্নেন্স প্রক্রিয়া সহজ করা।