ঢাকা   বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩

ছয় মিউচুয়াল ফান্ডের ব্যবস্থাপনা থেকে এলআর গ্লোবালকে সরাল বিএসইসি

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৪৪, ২৮ জুলাই ২০২৬

সর্বশেষ

ছয় মিউচুয়াল ফান্ডের ব্যবস্থাপনা থেকে এলআর গ্লোবালকে সরাল বিএসইসি

মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ বিনিয়োগে অনিয়ম ও ইউনিটধারীদের আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টকে ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডের অ্যাসেট ম্যানেজারের দায়িত্ব থেকে অপসারণ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ বিষয়ে সম্প্রতি আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বিএসইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড, এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড-১, এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড-১ এবং এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব আর এলআর গ্লোবাল পালন করতে পারবে না।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সিকিউরিটিজ আইন ও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার বিভিন্ন শর্ত অমান্য করে প্রতিষ্ঠানটি এসব ফান্ডের অর্থ কোয়েস্ট বিডিসিতে বিনিয়োগ করে। ওই বিনিয়োগের কারণে সংশ্লিষ্ট ইউনিটধারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েন।

অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে কমিশন চারবার কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠায় এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য শুনানির সুযোগও দেয়। তবে প্রতিবারই এলআর গ্লোবালের কোনো প্রতিনিধি শুনানিতে অংশ নেননি। একই সঙ্গে তাদের লিখিত জবাবও কমিশনের কাছে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়নি।

তদন্ত শেষে বিএসইসি সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে এবং তাদের বিনিয়োগ কার্যক্রম ইউনিটধারীদের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৩১(৩) অনুযায়ী তাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়। কমিশনের ৯৯৭তম সভায়, যা গত ৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল, এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন পায়।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আর্থিকভাবে দুর্বল এবং প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া পদ্মা প্রিন্টার্স, যা বর্তমানে কোয়েস্ট বিডিসি নামে পরিচিত, সেই প্রতিষ্ঠানের ৫১ শতাংশ শেয়ার বাজারমূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিক উচ্চ দামে কেনে এলআর গ্লোবাল। তখন শেয়ারটির বাজারদর ছিল ১৩ টাকার কিছু বেশি, অথচ প্রতিটি শেয়ারের জন্য ২৮৯ টাকা পরিশোধ করা হয়।

এ ছাড়া ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের একই শেয়ার ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডের জন্য ১৫ দশমিক ৮৮ টাকায় কেনা হলেও একই সময়ে এলআরজি ভেঞ্চার সেটি মাত্র ১০ টাকায় সংগ্রহ করে। বিএসইসির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এতে এলআরজি ভেঞ্চার আর্থিক সুবিধা পেলেও সংশ্লিষ্ট ফান্ডগুলোর ইউনিটধারীরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

কমিশনের অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ট্রাস্টির অনুমোদন ছাড়াই কোম্পানির পরিচালনায় অংশগ্রহণ, বিধিবহির্ভূতভাবে পরিচালক নিয়োগ এবং ২০২২ সাল থেকে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ থেকে ফান্ডগুলোর জন্য কোনো মুনাফা নিশ্চিত না করায় ইউনিটধারীদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য জানতে এলআর গ্লোবালের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা (সিআইও) রিয়াজ ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ