ঢাকা   শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

মাছ, ঝরনা আর ম্যাকাউ পাখি—আগারগাঁওয়ে নতুন অ্যাকুয়ারিয়াম পার্ক

ভ্রমণ

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২২:০২, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

মাছ, ঝরনা আর ম্যাকাউ পাখি—আগারগাঁওয়ে নতুন অ্যাকুয়ারিয়াম পার্ক

ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবনের মাঝেই এবার মিলছে মাছের রঙিন জগৎ, ৪০ ফুট উঁচু কৃত্রিম পাহাড়ি ঝরনা আর নানা প্রজাতির পাখির সান্নিধ্য। বাংলাদেশ বিমানবাহিনী জাদুঘর প্রাঙ্গণে গত ২৮ আগস্ট চালু হয়েছে নতুন বিনোদনকেন্দ্র অ্যাকুয়ারিয়াম পার্ক। পরিবার নিয়ে ঘুরতে গিয়ে মাছ দেখা, মাছকে খাবার খাওয়ানো, শিশুদের মাছ ধরার সুযোগ কিংবা ম্যাকাউ পাখির সঙ্গে ছবি তোলার মতো আয়োজন থাকায় জায়গাটি ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের আগ্রহ তৈরি করেছে।

আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ বিমানবাহিনী জাদুঘরে আগে যারা ঘুরেছেন, তারাও চাইলে নতুন এই আকর্ষণের জন্য আবার যেতে পারেন। জাদুঘরের ভেতরে ঢুকে হাতের ডান দিকে এগোলেই পাওয়া যাবে অ্যাকুয়ারিয়াম পার্ক। কাচের ট্যাংকের ভেতর বিচিত্র রঙ ও আকৃতির মাছ দেখার পাশাপাশি রয়েছে হাতে খাবার তুলে মাছকে খাওয়ানোর ব্যবস্থাও।

কাচের ট্যাংকে বিচিত্র মাছের সমাহার

অ্যাকুয়ারিয়াম পার্কে রয়েছে মোট ৩৫টি অ্যাকুয়ারিয়াম ট্যাংক। প্রতিটি ট্যাংকের ওপরে মাছের নাম, আবাসস্থল ও পরিচিতি তুলে ধরে প্ল্যাকার্ড রাখা হয়েছে। ফলে শুধু মাছ দেখা নয়, সেগুলো সম্পর্কে জানার সুযোগও থাকছে দর্শনার্থীদের।

এখানে দেখা মিলবে ঝুঁটিওয়ালা ফ্লাওয়ার হর্ন, চিংড়ির মতো দেখতে ক্রেফিশ, কুমিরের মুখের মতো অ্যালিগেটর গার, অ্যালবিনো শার্ক, রেইনবো শার্ক, পেরুন শার্ক এবং পাঙাশের মতো দেখতে পাঙ্গাসিয়াস শার্কসহ নানা প্রজাতির মাছের।

কোনো কোনো মাছের আকারও বেশ বড়। রয়েছে প্রায় চার বছর বয়সী ১২ কেজি ওজনের ব্ল্যাক কার্প, ৮ কেজি ওজনের গ্রাস কার্প এবং আড়াই কেজি ওজনের তেলাপিয়া। দেশি মাছের সংগ্রহে রয়েছে শোল ও খলশেসহ আরও বেশ কিছু প্রজাতি।

সব মিলিয়ে অ্যাকুয়ারিয়ামের ভেতরের দৃশ্য অনেকটা টেলিভিশন বা মুঠোফোনের পর্দায় দেখা বন্যপ্রাণীভিত্তিক অনুষ্ঠানের মাছের জগতের মতোই মনে হতে পারে।

৪০ ফুটের কৃত্রিম পাহাড়ি ঝরনা

অ্যাকুয়ারিয়াম থেকে বেরিয়ে পদ্মফুলের বাগান পেরিয়ে সামনে এগোলেই দেখা মিলবে একটি টানেলের। সেখানে সময়ের সঙ্গে রং বদলাতে থাকা কৃত্রিম ধোঁয়ার আবহ তৈরি করা হয়েছে।

টানেল পেরোলেই সামনে পড়বে ৪০ ফুট উঁচু কৃত্রিম পাহাড়ি ঝরনা। ঝরনার পানিতে ঘুরে বেড়ায় বিভিন্ন রঙের কই ও কার্প মাছ। এখানেই রয়েছে দর্শনার্থীদের নিজ হাতে মাছকে খাবার দেওয়ার সুযোগ।

এবার পাখির রাজ্যেও প্রবেশ

ঝরনা পেরিয়ে লোহার শিকলের পর্দা সরিয়ে প্রবেশ করা যাবে পাখিশালায়। সেখানে রয়েছে গ্রিন-উইংড ম্যাকাউ, ব্লু অ্যান্ড গোল্ড ম্যাকাউ, লাভবার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের পাখি।

রঙিন এসব পাখিকে কাছ থেকে দেখার পাশাপাশি দর্শনার্থীরা ছবি তোলার সুযোগও পাবেন। বিশেষ করে ম্যাকাউ পাখির সঙ্গে ছবি তোলার আয়োজনটি পার্কের অন্যতম আকর্ষণ।

শিশুদের মাছ ধরার সুযোগ

শুধু ঘুরে দেখা নয়, দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে বেশ কিছু অংশগ্রহণমূলক আয়োজনও। ১২ বছর বা তার কম বয়সী শিশুরা ১০০ টাকা দিয়ে ছোট নেট ব্যবহার করে মাছ ধরতে পারবে।

ধরা মাছের মধ্যে অ্যাকুয়ারিয়ামে পালনের উপযোগী ছোট মাছগুলো শিশুরা চাইলে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারবে। এ জন্য চাইলে পার্ক থেকেই অ্যাকুয়ারিয়ামের জার কেনার সুযোগ রয়েছে।

৫০ টাকায় মাছকে খাবার

মাছকে নিজের হাতে খাবার দিতে চাইলে খরচ হবে ৫০ টাকা। নির্দিষ্ট দুটি জায়গায় এই সুযোগ রাখা হয়েছে—লিচুতলার বড় পানির ট্যাংক এবং ৪০ ফুট উঁচু কৃত্রিম পাহাড়ি ঝরনার নিচে।

ছোট কৌটায় দেওয়া শর্ষের দানার মতো খাবার পানিতে ফেলতেই দল বেঁধে মাছ দর্শনার্থীদের কাছে চলে আসে। শিশুদের পাশাপাশি বড়দের জন্যও এটি হতে পারে বেশ উপভোগ্য অভিজ্ঞতা।

ম্যাকাউ পাখির সঙ্গে ছবি

পাখিশালায় ম্যাকাউ পাখিকে হাতে নিয়ে ছবি তুলতে চাইলে টিকিটের দাম ২৫০ টাকা। আর ৩০০ টাকা খরচ করে ম্যাকাউ কাঁধে নিয়ে ৩৬০ ডিগ্রি ফটো বুথেও ছবি তোলার ব্যবস্থা রয়েছে।

ঘোরাঘুরির মাঝে ক্ষুধা লাগলে পার্কের ক্যাফেতে খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে।

সামনে আরও নতুন আয়োজন

অ্যাকুয়ারিয়াম পার্কের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, সামনে পার্কে লোনাপানির বিভিন্ন প্রজাতির মাছ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মাছের গ্যালারি শেষ করে ঝরনার আগে যে টানেলটি রয়েছে, সেখানে কাচের জারে বিশেষ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষিত বিলুপ্তপ্রায় মাছ প্রদর্শনের পরিকল্পনাও রয়েছে। জীবিত অবস্থায় এসব মাছ প্রদর্শন সম্ভব নয় বলেই সংরক্ষিত নমুনার মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া ভবিষ্যতে থাকছে বার্ড ফিডিং জোন। সেখানে দর্শনার্থীদের হাত থেকেই পাখিরা উড়ে এসে খাবার খেতে পারবে। স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য কুইজ, ওয়ার্কশপ এবং লার্নিং সেশন জোন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

কত টাকা খরচ হবে?

অ্যাকুয়ারিয়াম পার্কটি বাংলাদেশ বিমানবাহিনী জাদুঘরের ভেতরে হওয়ায় প্রথমে জাদুঘরে প্রবেশের টিকিট কাটতে হবে। দুই বছরের বেশি বয়সী দর্শনার্থীদের জন্য জাদুঘরের টিকিট ৫০ টাকা।

জাদুঘরে ঢোকার পর ডান দিকে এগোলেই অ্যাকুয়ারিয়াম পার্ক। সেখানেও দুই বছরের বেশি বয়সী দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশমূল্য ১৫০ টাকা। তবে ২৭ সেপ্টেম্বরের পর এই টিকিটের দাম বেড়ে ২০০ টাকা হওয়ার কথা রয়েছে।

দলগতভাবে ভ্রমণে আসা স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য প্রবেশমূল্যে ৫০ শতাংশ ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

কখন যাবেন?

আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের একেবারে পাশেই বাংলাদেশ বিমানবাহিনী জাদুঘর। ফলে ঢাকার যেকোনো প্রান্ত থেকে মেট্রোরেলে সহজেই আগারগাঁওয়ে পৌঁছানো যাবে।

সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার অ্যাকুয়ারিয়াম পার্ক খোলা থাকে দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। শুক্রবার, শনিবার ও সরকারি ছুটির দিনে খোলা থাকে সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। রোববার সাপ্তাহিক ছুটি।

তাই ছুটির দিনে পরিবার নিয়ে ঢাকার মধ্যেই মাছ, ঝরনা আর পাখির ভিন্নধর্মী জগৎ দেখতে চাইলে আগারগাঁওয়ের এই নতুন অ্যাকুয়ারিয়াম পার্ক হতে পারে ঘোরার একটি নতুন গন্তব্য।

সর্বশেষ