দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট ও দীর্ঘস্থায়ী দরপতনের প্রভাবেই ভালো ডিভিডেন্ড ঘোষণার পরও সংশ্লিষ্ট শেয়ারের প্রতি চাহিদা বাড়ছে না বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, তালিকাভুক্তির পর সর্বোচ্চ লভ্যাংশ ঘোষণা করেও কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া না থাকা বাজারের দুর্বল মনোভাবেরই প্রতিফলন। এর সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থার দৃশ্যমান কার্যকর উদ্যোগের অভাব নিয়ে অসন্তোষও বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে।
বর্তমানে শেয়ারবাজারে চলছে ডিভিডেন্ড ঘোষণার মৌসুম। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বেশ কয়েকটি কোম্পানি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে চারটি কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর সর্বোচ্চ ডিভিডেন্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সাধারণত ভালো ডিভিডেন্ডের ঘোষণা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রাখে। কিন্তু এবার এমন ঘোষণার পরও সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোতে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের দরপতনে বিনিয়োগকারীদের আস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে কোম্পানির ডিভিডেন্ড ঘোষণার মতো ইতিবাচক খবরও বাজারে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে বাজারের স্থিতিশীলতা ফেরাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘস্থায়ী দরপতন থেকে বাজারকে উত্তরণে কমিশনের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। এতে বিনিয়োগকারীদের হতাশা আরও বাড়ছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে বিনিয়োগকারীরা কমিশনের বিরুদ্ধে রাজপথে কঠোর কর্মসূচিতে যেতে পারেন বলেও আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচকসহ সব কটি সূচক কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে টাকার অঙ্কে লেনদেনের পরিমাণ। দিনটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদরও কমেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সপ্তাহের তৃতীয় কর্মদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১২ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩৮৬ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসইএস ৬ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৪৬ দশমিক ৭৬ পয়েন্টে নেমেছে। আর বাছাই করা ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ২ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৭ দশমিক ৯১ পয়েন্টে।
মঙ্গলবার ডিএসইতে মোট ৩৮৭টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১০৮টির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ২২৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৩টির দর।
লেনদেনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দিনটিতে ডিএসইতে প্রায় ৪০৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের কর্মদিবসে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৪১০ কোটি ৫৭ লাখ টাকার। সে হিসাবে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ৭ কোটি ৭ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মঙ্গলবার শেয়ার ও ইউনিট মিলিয়ে প্রায় ১৪ কোটি ৭২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা। ফলে এ বাজারেও লেনদেন কমেছে।
এদিন সিএসইতে মোট ১৬৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৫২টির দর বেড়েছে, ৯২টির কমেছে এবং ২৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে, মঙ্গলবার সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬৯ দশমিক ০৩ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৪৮৯ দশমিক ৬১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের কর্মদিবসেও সূচকটি ২২ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট কমেছিল। ফলে দুই বাজারেই সূচক ও লেনদেনের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
























