তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ-সংক্রান্ত অনুমোদনহীন চিঠি ইস্যু ও অফিসের গোপনীয়তা ভঙ্গের অভিযোগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সহকারী পরিচালক মো. ইব্রাহিম আলীর এক বছরের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান স্বাক্ষরিত গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ইব্রাহিম আলীর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে স্বপদে পুনর্বহাল করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর এক বছরের ইনক্রিমেন্ট স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৪ মার্চ। নভানা ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে অভিযোগের তদন্ত চলাকালে ইব্রাহিম আলী স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগসংক্রান্ত একটি অনুমোদনহীন চিঠি ইস্যু করেন। বিএসইসির তদন্তে উঠে আসে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই তিনি চিঠিটি জারি করেছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন বিকেলে ঢাকার আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের কাছে বিএসইসির কার্যালয়ের বাইরে নভানা ফার্মাসিউটিক্যালসের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি সচিব মো. আমিনুল হক ভূঁইয়ার সঙ্গে দেখা করেন ইব্রাহিম আলী। এ সময় তিনি অফিসের নিয়ম ও গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে অনুমোদনহীন চিঠিটি হস্তান্তর করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে সেটির ছবি তোলার সুযোগ দেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পরদিন কর্তৃপক্ষ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং ভুল তথ্য দেন।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১ এপ্রিল ইব্রাহিম আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের ও তদন্ত শুরু করে বিএসইসি।
বিএসইসির চিফ অ্যাকাউন্ট্যান্ট কামরুল আনাম খানের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি তদন্ত শেষে জানায়, তাঁর কর্মকাণ্ড বিএসইসি কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০২১ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর আওতায় গুরুতর শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত।
তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলেও ইব্রাহিম আলীর বিরুদ্ধে তুলনামূলক লঘু শাস্তি দেওয়া হয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কমিশনের সভায় তাঁর লিখিতভাবে অপরাধ স্বীকার, নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড না করার প্রতিশ্রুতি বিবেচনায় নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাঁর এক বছরের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত থাকবে। তবে সাময়িক বরখাস্তের সময়কাল পূর্ণ বেতন ও ভাতাসহ সক্রিয় চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করা হবে।
এদিকে, তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংবেদনশীল তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং পুঁজিবাজারে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মূল্যসংবেদনশীল তথ্যের অননুমোদিত প্রকাশ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তথ্যগত বৈষম্য তৈরি করতে পারে। এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অভ্যন্তরীণ নজরদারি ও তথ্য ব্যবস্থাপনায় কঠোরতা নিশ্চিত করা জরুরি।
সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের এক নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, প্রকাশের আগে মূল্যসংবেদনশীল তথ্যের ভিত্তিতে লেনদেন হলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে। ত্রৈমাসিক তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকলেও এ ধরনের অনিয়ম পুঁজিবাজারের ন্যায্যতা ক্ষুণ্ন করার ঝুঁকি তৈরি করে।























