ঢাকা   বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

১৩ আবেদনের যাচাই-বাছাই, বিকাশ-রবিসহ ৪ ডিজিটাল ব্যাংকে অনুমোদন

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:৫৮, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৩ আবেদনের যাচাই-বাছাই, বিকাশ-রবিসহ ৪ ডিজিটাল ব্যাংকে অনুমোদন

বিকাশ ও রবিসহ চারটি প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যাংককে প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। একই সঙ্গে আগে নীতিগত অনুমোদন পাওয়া কড়ি ডিজিটাল ব্যাংককে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এলওআই পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ব্যাংকগুলো কার্যক্রম শুরুর দিকে এগোতে পারবে। 

আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ডিজিটাল ব্যাংকগুলোর অনুমোদন-সংক্রান্ত বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়।

প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া চারটি প্রতিষ্ঠান হলো—ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান, বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক ও বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংক। এর মধ্যে ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটানের উদ্যোক্তা ভুটানের ডিকে ব্যাংক। বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা বিকাশের শেয়ারধারীরা। নোভা ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোগে রয়েছে বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন ও স্কয়ার গ্রুপ। আর বুস্ট ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা রবির মূল প্রতিষ্ঠান আজিয়াটা লিমিটেড। 

এ ছাড়া আগে প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া কড়ি ডিজিটাল ব্যাংককেও এলওআই দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। ফলে নতুন চারটির পাশাপাশি কড়ি ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স প্রক্রিয়াও পরবর্তী ধাপে এগোবে।

ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন করে আবেদন আহ্বান করেছিল। নির্ধারিত সময়ে বিভিন্ন খাতের মোট ১৩টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। আবেদনকারীদের মধ্যে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, মোবাইল অপারেটর, বড় শিল্পগোষ্ঠী এবং ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ছিল। 

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের আবেদন গ্রহণ করে। ওই সময় আবেদন জমা পড়লেও নানা কারণে তখন প্রস্তাবগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তী সময়ে নতুন করে আবেদন গ্রহণ না করে আগের আবেদনগুলোর মধ্য থেকেই প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর আগে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে কয়েক দফা আবেদন ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী ডিজিটাল ব্যাংক প্রচলিত শাখা, উপশাখা বা নিজস্ব এটিএম নেটওয়ার্ক ছাড়াই প্রযুক্তিনির্ভর প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার জন্য গঠিত হবে। 

প্রাথমিক অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরবর্তী regulatory শর্ত পূরণ করতে হবে। এরপর এলওআই ও চূড়ান্ত লাইসেন্স-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে এসব ডিজিটাল ব্যাংক বাণিজ্যিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাবে।