গ্রাহকদের শেয়ার কেনার জন্য জমা দেওয়া প্রায় সাড়ে ১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদিত ব্রোকারেজ হাউজ ফার্স্টলিড সিকিউরিটিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক মো. মুস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে ফার্স্টলিড সিকিউরিটিজের মতিঝিল শাখাসহ বিভিন্ন শাখার গ্রাহকদের শেয়ার কেনার উদ্দেশ্যে জমা রাখা ১৯ কোটি ৫৫ লাখ ৬০ হাজার ৪৮০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নূর চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক মুহিবুল বারী রহমান, পরিচালক মোহাম্মদ আমান উল্লাহ, উপমহাব্যবস্থাপক এহতেশামুল হক, পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ মনসুরুজ্জামান, রুমেল মোহাম্মদ সাইফুল রহমান পীর, আবু মুহাম্মদ আনোয়ারুল আম্বিয়ক চৌধুরী, আব্দুর রাকিব শিকদার এবং পরিচালক মুহাম্মদ মিজানুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে
দুদকের এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফার্স্টলিড সিকিউরিটিজের বিভিন্ন শাখার গ্রাহকদের কাছ থেকে শেয়ার কেনার উদ্দেশ্যে অর্থ সংগ্রহ করা হলেও সেই অর্থ নির্ধারিত কাজে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, গ্রাহকদের পোর্টফোলিওতে থাকা অর্থ অনুমোদন ছাড়াই এক স্থান থেকে অন্যত্র স্থানান্তর করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে জাল স্বাক্ষর ও জাল দলিল ব্যবহারের অভিযোগও আনা হয়েছে।
এ ছাড়া হিসাবসংক্রান্ত নথিপত্রে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগ রয়েছে। গত ৩০ জুনের শেয়ারমূল্য বিবেচনায় নিয়ে আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ ১৯ কোটি ৫৫ লাখ ৬০ হাজার ৪৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে দুদকের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএসইসির নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগ
দুদকের নথি অনুযায়ী, বিএসইসির নির্দেশনা অনুসরণ না করে গ্রাহকদের অর্থ অনুমোদনহীনভাবে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্রোকারেজ হাউজটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিধিবিধান লঙ্ঘন করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) গত ১৭ জুলাই পরিচালিত এক তদন্তেও ফার্স্টলিড সিকিউরিটিজের মতিঝিল শাখায় এ ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পেয়েছে বলে দুদকের মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রাহকদের বিনিয়োগের জন্য জমা রাখা অর্থ নির্ধারিত কাজে ব্যবহার না করা, অনুমোদন ছাড়া অর্থ স্থানান্তর, জাল স্বাক্ষর ও দলিল ব্যবহারের মতো অভিযোগের ভিত্তিতেই প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে।
তবে মামলায় আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
























