টানা কয়েক দিনের ঊর্ধ্বমুখী ধারার পর সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে এসে কিছুটা ছন্দপতন ঘটেছে দেশের শেয়ারবাজারে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) লেনদেনের শুরুতে সূচকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা দুর্বল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত প্রধান সূচক ও লেনদেন—দুটিই কমেছে। পাশাপাশি লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দরও কমেছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, দিনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী অবস্থান দেখে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, আগের দিনের ধারাবাহিকতায় সূচক ও লেনদেন আরও বাড়তে পারে। দিনের মাঝামাঝি পর্যন্ত সূচকে স্বাভাবিক ওঠানামা থাকলেও পরে ধীরে ধীরে ঊর্ধ্বমুখী গতি কমে আসে। একপর্যায়ে সূচক নিম্নমুখী হয়ে পড়ে এবং লেনদেনের শেষ পর্যন্ত সেই প্রবণতা অব্যাহত থাকে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিনের দর সংশোধন বা সূচকের পতনকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে টানা কয়েক দিন একই ধরনের নিম্নমুখী প্রবণতা থাকলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে হতাশা তৈরি হতে পারে।
এ অবস্থায় বাজারের স্বাভাবিক গতি ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে কার্যকর নজরদারি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বাজারে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকলে শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতাও ধরে রাখা সম্ভব হবে।
কমেছে ডিএসইর প্রধান সূচক
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৭ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট কমেছে। ফলে দিনশেষে সূচকটি ৫ হাজার ৫৭৮ দশমিক ৩৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
এদিন ডিএসইর অপর দুই সূচকেও পতন হয়েছে। ডিএসইএস সূচক ৩ দশমিক ৪৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১১৫ দশমিক ৮৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ১০ দশমিক ৫৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১২ দশমিক ১৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে
বৃহস্পতিবার ডিএসইতে মোট ৩৮৮টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৪১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে দর কমেছে ১৯০টির। আর ৫৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
অর্থাৎ, দিনশেষে ডিএসইতে দরপতনের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাই ছিল বেশি।
৮৮ কোটি টাকা কমেছে লেনদেন
সূচকের পাশাপাশি টাকার অঙ্কেও লেনদেন কমেছে। বৃহস্পতিবার ডিএসইতে প্রায় ৭৫৬ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
এর আগের দিন বুধবার ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৪৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ৮৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
সিএসইতে লেনদেন কমলেও সূচক বেড়েছে
অন্যদিকে, দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বৃহস্পতিবার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৭২ লাখ টাকার। আগের দিন বুধবার লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে সিএসইতেও লেনদেন কমেছে।
এদিন সিএসইতে মোট ১৮৭টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৮৫টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, ৭৪টির কমেছে এবং ২৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
তবে সূচকের ক্ষেত্রে ডিএসইর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে সিএসইতে। বৃহস্পতিবার সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪১ দশমিক ৫ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৯১৭ দশমিক ১৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর আগের দিন বুধবার সিএএসপিআই সূচক বেড়েছিল ৭৫ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট।
























