ঢাকা   মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

২৫ শতাংশ সীমা ছাড়ানোয় সিএসইর ১৭ লাখ শেয়ার ছাড়তে হবে এবিজির সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:০১, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বশেষ

২৫ শতাংশ সীমা ছাড়ানোয় সিএসইর ১৭ লাখ শেয়ার ছাড়তে হবে এবিজির সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) কৌশলগত বিনিয়োগকারী এবিজি লিমিটেড নির্ধারিত ২৫ শতাংশ মালিকানা সীমা পূরণ করার পরও তাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে আরও শেয়ার থাকায় আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিধিমালা অনুযায়ী, কৌশলগত বিনিয়োগকারী ও তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে নির্ধারিত সীমার বেশি শেয়ার রাখা যায় না। এ কারণে এবিজির সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান স্টক অ্যান্ড সিকিউরিটি লিংকওয়ের নামে থাকা ১৭ লাখ ১৪ হাজার ৯৩২টি অতিরিক্ত শেয়ার ব্লক করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

সহজ হিসাবে, সিএসইর মোট পরিশোধিত মূলধনের ১০০টি শেয়ার ধরে নিলে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে এবিজি লিমিটেড সর্বোচ্চ ২৫টি শেয়ার রাখতে পারে। কিন্তু এবিজির নামে থাকা ২৫ শতাংশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান স্টক অ্যান্ড সিকিউরিটি লিংকওয়ের নামে আরও ০ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ার থাকায় সম্মিলিত মালিকানা দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ৫১ শতাংশে। অর্থাৎ অনুমোদিত সীমার চেয়ে অতিরিক্ত রয়েছে ০ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ার।

স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এ বিষয়ে সম্প্রতি আদেশ জারি করেছে বিএসইসি। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, অতিরিক্ত শেয়ারগুলো পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিক্রি, হস্তান্তর, বন্ধক কিংবা অন্য কোনো উপায়ে স্থানান্তর করা যাবে না।

কেন অতিরিক্ত শেয়ার রাখা যাবে না

কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বিধিমালা, ২০২৩ অনুযায়ী, কোনো কৌশলগত বিনিয়োগকারী একটি প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে পারে। একই সঙ্গে ওই কৌশলগত বিনিয়োগকারীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শেয়ার ধারণ করতে পারবে না।

সিএসইর ক্ষেত্রে এবিজি লিমিটেডের মালিকানা ইতোমধ্যেই সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশে রয়েছে। এর বাইরে একই গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান স্টক অ্যান্ড সিকিউরিটি লিংকওয়ের নামে আরও ০ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ার থাকায় বিধিমালায় নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছে।

এই অতিরিক্ত অংশই নিয়ন্ত্রক সংস্থার আপত্তির কারণ হয়েছে।

১৭ লাখের বেশি শেয়ার ব্লক

বিধি অনুযায়ী অতিরিক্ত শেয়ার সমন্বয়ের প্রক্রিয়া হিসেবে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডকে (সিডিবিএল) স্টক অ্যান্ড সিকিউরিটি লিংকওয়ের ১৭ লাখ ১৪ হাজার ৯৩২টি শেয়ার অবিলম্বে ব্লক করার ব্যবস্থা নিতে বলেছে বিএসইসি।

ব্লক করার অর্থ হলো—শেয়ারগুলো সংশ্লিষ্ট হিসাবেই থাকবে, কিন্তু অনুমোদন ছাড়া এগুলো বিক্রি বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা যাবে না।

তবে এসব শেয়ারের বিপরীতে ঘোষিত ক্যাশ ডিভিডেন্ড পাওয়ার অধিকার থাকবে সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডারের। অর্থাৎ শেয়ার বিক্রি বা স্থানান্তর বন্ধ থাকলেও শেয়ার থেকে ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ পাওয়া যাবে।

অন্যদিকে, এসব ব্লক করা শেয়ারের বিপরীতে যদি কোনো বোনাস বা রাইট শেয়ার দেওয়া হয়, সেগুলোও সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডারের নামে ইস্যু করতে হবে। নতুন পাওয়া শেয়ারও বিদ্যমান ব্লক করা শেয়ারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্লক অবস্থায় থাকবে।

শেষ পর্যন্ত শেয়ার দিতে হবে অন্য পক্ষকে

বিএসইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্টক অ্যান্ড সিকিউরিটি লিংকওয়ের নামে ব্লক করা অতিরিক্ত শেয়ার কমিশনের অনুমোদন নিয়ে এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, যারা এবিজি লিমিটেডের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।

অর্থাৎ অতিরিক্ত শেয়ার স্থায়ীভাবে একই গোষ্ঠীর মধ্যে রেখে দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। নির্ধারিত মালিকানা সীমা ঠিক রাখতে সংশ্লিষ্ট নয়—এমন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে শেয়ার স্থানান্তর করতে হবে।

এই প্রক্রিয়া শেষ হলে এ বিষয়ে সিএসই ও সিডিবিএলকে লিখিতভাবে কমিশনকে জানাতে বলা হয়েছে।

কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর প্রস্তুতির মধ্যেই নির্দেশনা

দেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর প্রস্তুতি যখন এগিয়ে চলছে, ঠিক তখনই কৌশলগত বিনিয়োগকারীর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত শেয়ার ধারণ নিয়ে বিএসইসির এই নির্দেশনা এসেছে।

সিএসইর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর উদ্যোগে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে এবিজি লিমিটেড ২৫ শতাংশ শেয়ার নেওয়ার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে।

কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর জন্য লেনদেন নিষ্পত্তি, অর্ডার ব্যবস্থাপনা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরির কাজ এগিয়েছে। একই সঙ্গে ট্রেডারদের প্রশিক্ষণ এবং ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তুত করার কার্যক্রমও চলছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে কয়েকটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানকে কমোডিটি ডেরিভেটিভস ব্রোকার হিসেবে প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রচলিত শেয়ার ও অন্যান্য সিকিউরিটিজের পাশাপাশি পণ্যভিত্তিক ডেরিভেটিভস লেনদেনের জন্য নতুন একটি বাজার কাঠামো তৈরি হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালুর এই প্রস্তুতির মধ্যেই এবিজির সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত শেয়ার ধারণ নিয়ে বিএসইসির নির্দেশনা মালিকানা সীমা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের শেয়ার ধারণের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।

বিএসইসি জানিয়েছে, এক্সচেঞ্জেস ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন, ২০১৩ এবং ডিপোজিটরি আইন, ১৯৯৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতার পাশাপাশি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বিধিমালা, ২০২৩-এর বিধান বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ