প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে উত্তোলিত অর্থ নির্ধারিত খাতে ও সময়ে ব্যবহার না করা এবং অনুমোদন ছাড়া অর্থের খাত পরিবর্তনের ঘটনায় সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির নয় পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং কোম্পানি সচিবকে মোট ১১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
সম্প্রতি এ বিষয়ে আদেশ জারি করেছে বিএসইসি। কমিশনের আদেশে বলা হয়েছে, কোম্পানিটির আইপিওর অর্থ ব্যবহারে শর্ত লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সিকদার ইন্স্যুরেন্স আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। ২০২৩ সালের ২২ নভেম্বর কোম্পানিটিকে আইপিওর সম্মতিপত্র দেওয়া হয়। একই বছরের ২১ থেকে ২৮ ডিসেম্বর আইপিওর সাবস্ক্রিপশন সম্পন্ন হয়। পরে ২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারি উত্তোলিত পুরো অর্থ ন্যাশনাল ব্যাংকের এসক্রো হিসাবে জমা করা হয়।
কোম্পানির প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, উত্তোলিত ১৬ কোটি টাকার মধ্যে ৪ কোটি টাকা এফডিআর, ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, ৬ কোটি ৮ লাখ ৭১ হাজার টাকা ফ্লোর ক্রয় এবং ১ কোটি ১১ লাখ ২৮ হাজার টাকা আইপিও ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত ছিল। এসব অর্থ তিন মাসের মধ্যে ব্যবহারের কথা ছিল।
তদন্তে বিএসইসি দেখতে পায়, এফডিআরের জন্য বরাদ্দ ৪ কোটি টাকার পরিবর্তে কোম্পানিটি ৪ কোটি ২০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে। কোম্পানির দাবি, আইপিও ব্যয়ের খাত থেকে ২০ লাখ টাকা সরিয়ে অতিরিক্ত অর্থ এফডিআরে বিনিয়োগ করা হয়। তবে অর্থের খাত পরিবর্তনের আগে শেয়ারহোল্ডারদের অন্তত ৫১ শতাংশের অনুমোদন নেওয়ার শর্ত থাকলেও তা নেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য বরাদ্দ ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকার মধ্যে ৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়। অব্যবহৃত থাকে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়, ন্যাশনাল ব্যাংকের তারল্য সংকটের কারণে দুটি চেক ফেরত যায় এবং ৪০ লাখ টাকার একটি পে-অর্ডার আটকে থাকায় নির্ধারিত বিনিয়োগ করা সম্ভব হয়নি। তবে এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি বিএসইসি।
এ ছাড়া ফ্লোর কেনার জন্য বরাদ্দ ৬ কোটি ৮ লাখ ৭১ হাজার টাকার কোনো অর্থই নির্ধারিত সময়ে ব্যবহার করা হয়নি। পরে কোম্পানির পর্ষদ ওই অর্থ সরকারি ট্রেজারি বিলসে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডাররা এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। তবে তদন্তকালীন সময়ে নির্ধারিত খাতে অর্থ ব্যবহার না করাকেও আইপিওর শর্ত লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করেছে কমিশন।
আইপিও ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ ১ কোটি ১১ লাখ ২৮ হাজার টাকার মধ্যে ৯০ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। বাকি ২১ লাখ ২৮ হাজার টাকা অব্যবহৃত ছিল। এর মধ্যে ২১ লাখ টাকা এফডিআরে বিনিয়োগ করা হলেও এ ক্ষেত্রেও আগাম অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
এসব বিষয়ে ২০২৬ সালের ৮ জুন বিএসইসির শুনানিতে কোম্পানির কর্মকর্তারা তাদের ব্যাখ্যা দেন। তবে কমিশন তাদের ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি। আইপিও তহবিল ব্যবহারের শর্ত না মানাকে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে জরিমানার আদেশ দেয় বিএসইসি।
জরিমানাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন- কোম্পানির চেয়ারম্যান নাসিম সিকদার, ভাইস চেয়ারম্যান মমতাজুল হক সিকদার, পরিচালক লিসা ফাতেমা হক সিকদারসহ নয়জন পরিচালক, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও শেখ আবদুর রফিক এবং কোম্পানি সচিব আবদুর রাজ্জাক।
জরিমানার অর্থ আদেশ জারির ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে বিএসইসিতে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ না করলে সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
























