ঢাকা   মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

সুখবর: সঞ্চয়পত্রের টাকা ভুল হিসাবে যাওয়ার ঝুঁকি কমছে, স্বস্তিতে ৪০ লাখ গ্রাহক

অর্থ ও বাণিজ্য

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:০১, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুখবর: সঞ্চয়পত্রের টাকা ভুল হিসাবে যাওয়ার ঝুঁকি কমছে, স্বস্তিতে ৪০ লাখ গ্রাহক

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও মূল অর্থ পরিশোধে ভুল ব্যাংক হিসাবের কারণে বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি কমাতে আগামীকাল মঙ্গলবার চালু হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় ব্যাংক হিসাব যাচাই ব্যবস্থা। নতুন এ ব্যবস্থায় টাকা পাঠানোর আগেই হিসাব নম্বরের ভুল বা অসামঞ্জস্য শনাক্ত করা যাবে। এতে প্রায় ৪০ লাখ গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ নিরাপদে পাওয়ার পথ সহজ হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ আজ জানিয়েছে, জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (এভিএস) চালু করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকগুলোর সমন্বয়ে এ ব্যবস্থা কার্যকর হবে। সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় গ্রাহকের দেওয়া ব্যাংক হিসাব নম্বর তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে।

অর্থ বিভাগের বাস্তবায়িত ‘স্ট্রেনদেনিং পাবলিক ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম টু এনাবল সার্ভিস ডেলিভারি’ (এসপিএফএমএস) কর্মসূচির আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রাহকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের ব্যবস্থা আগে থেকেই চালু ছিল। এবার সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ব্যাংক হিসাব যাচাই।

এত দিন অনলাইন সিস্টেমে আবেদনকারী যে হিসাব নম্বর দিতেন, সেটিই সরাসরি সংরক্ষণ করা হতো। নম্বরের কোনো সংখ্যা ভুল হলে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে পাঠানো মুনাফা বা মূল অর্থ ফেরত আসত। এরপর তথ্য সংশোধন করে পুনরায় টাকা পাঠাতে হতো। এতে বিনিয়োগকারীর সময় ও ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি ইস্যু অফিস, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর অতিরিক্ত কাজ করতে হতো। ভুল হিসাবের কারণে একজনের প্রাপ্য অর্থ অন্য ব্যক্তির হিসাবে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও ছিল।

নতুন ব্যবস্থায় এনএসসি সিস্টেমে ব্যাংক হিসাব নম্বর দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে সেটি যাচাই করা হবে। প্রথম ধাপে হিসাবটি সঠিক ও সচল কি না, তা দেখা হবে। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নম্বরের সঙ্গে হিসাবধারীর তথ্য মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। ফলে অর্থ স্থানান্তরের আগেই ভুল বা অসামঞ্জস্য ধরা পড়বে।

এভিএস দুটি ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে। নতুন সঞ্চয়পত্র বা বন্ড কেনার সময় গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব যাচাই করা হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগের পর কেউ ব্যাংক হিসাব পরিবর্তন বা সংশোধন করতে চাইলে নতুন হিসাবটিও একই প্রক্রিয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা হবে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মতে, এভিএস চালু হলে ভুল ব্যাংক হিসাব নম্বর ভুক্তির হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। এতে ইএফটির মাধ্যমে অর্থ ফেরত আসার ঝুঁকি কমবে এবং বিনিয়োগকারীদের ভোগান্তি হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর অতিরিক্ত কাজও কমবে। প্রকৃত হিসাবধারীর হিসাবে গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ নিরাপদ ও নির্ভুলভাবে পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।

অর্থ বিভাগের ভাষ্য, জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ডিজিটাল সেবা আধুনিকীকরণে এভিএস একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সংযুক্ত এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে সঞ্চয়পত্রের লেনদেন আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য হবে। প্রতিদিনের বিপুলসংখ্যক লেনদেনে ভুল কমিয়ে গ্রাহকের প্রাপ্য অর্থ দ্রুত ও নিরাপদে নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে পৌঁছানো নিশ্চিত হবে বলে আশা করছে অর্থ বিভাগ।

সরকারের ১১টি জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের মধ্যে ৯টি জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে এ সিস্টেমে নিবন্ধিত একক গ্রাহকের সংখ্যা ৩৯ লাখ ৪৬ হাজার ২২৪। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ইএফটির মাধ্যমে মুনাফা ও মূল অর্থ পরিশোধ করা হয়। একই সময়ে দৈনিক গড়ে প্রায় ৮ হাজার নতুন সঞ্চয়পত্র ইস্যু হয়।