দেশের শেয়ারবাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা, তারল্য সংকট নিরসন এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের কাছে ১৮ দফা সংস্কার ও উন্নয়ন প্রস্তাবনা জমা দিয়েছে ‘পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী জাতীয় ঐক্য ফাউন্ডেশন’। সংগঠনটির দাবি, বাজারের বর্তমান কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করে একটি শক্তিশালী ও বিনিয়োগবান্ধব পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন জরুরি।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতিতে পুঁজিবাজারের ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৩৫ লাখ বিনিয়োগকারী এবং পরোক্ষভাবে কয়েক কোটি মানুষের জীবিকা এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মূলধন সংগ্রহ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে পুঁজিবাজারের অবদান আরও বাড়াতে হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।
সংগঠনটি মনে করে, বাজারে তারল্য সংকট কাটাতে অন্তত ৫০ হাজার কোটি টাকার ‘মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’ গঠন প্রয়োজন। একই সঙ্গে মার্জিন ঋণ বিধিমালাকে আরও বাস্তবসম্মত ও বিনিয়োগবান্ধব করার জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত নিয়ে চূড়ান্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক ঋণের সুদের হার ১০ শতাংশের নিচে রাখার উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি করা হয়েছে, যাতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের আকর্ষণ বৃদ্ধি পায়।
প্রস্তাবনায় তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত, মুনাফা ও নগদ লভ্যাংশ প্রদানে উৎসাহ বৃদ্ধি এবং নিরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্বল ও ঋণগ্রস্ত কোম্পানির পরিবর্তে মৌলভিত্তিসম্পন্ন ও সরকারি খাতের ভালো কোম্পানিগুলোকে বাজারে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বাই-ব্যাক আইন দ্রুত কার্যকর করা, নেতিবাচক (নেগেটিভ) মার্জিন ঋণ হিসাবের সুদ মওকুফ, ফোর্স সেল বন্ধ এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার দাবিও জানানো হয়েছে। সংগঠনটির মতে, এসব পদক্ষেপ বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, বাজারে বড় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় করতে হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মার্চেন্ট ব্যাংকিং উইংয়ের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে বাজারে তারল্য ফিরে আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি বিদেশি ও বহুজাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য কর-সুবিধা ও প্রণোদনা দেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।
সংগঠনটি বাজারে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিএসইসি, ডিএসই, সিএসই, সিডিবিএল, সিএমএসএফসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও দক্ষ ও কার্যকর করার প্রস্তাব দিয়েছে। একই সঙ্গে গুজব ও কারসাজি দমনে মনিটরিং সেল গঠন, লেনদেন ব্যয় কমানো এবং বিনিয়োগকারীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
স্মারকলিপির শেষাংশে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রেমিট্যান্স, রপ্তানি আয় এবং ব্যাংকিং খাতে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেলেও পুঁজিবাজার এখনও প্রত্যাশিত স্থিতিশীলতা অর্জন করতে পারেনি। তাই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে এনে বাজারকে অর্থনীতির শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে পরিণত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
























