ঢাকা   রোববার ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩

শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে বিএসইসিকে বিনিয়োগকারীদের ১১ দফা প্রস্তাব

শেয়ারবাজার

শেয়ারবিজনেস ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:২৮, ২৬ জুলাই ২০২৬

শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে বিএসইসিকে বিনিয়োগকারীদের ১১ দফা প্রস্তাব

দেশের শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা, বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা এবং বাজারের কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে ১১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির দাবি, এসব প্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়ন করা হলে বাজারে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা ফিরবে, একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও পুনরুদ্ধার হবে।

রোববার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খানের হাতে ১১ দফা সুপারিশ তুলে দেন সংগঠনটির সভাপতি কাজী মোহাম্মদ নজরুল। এ সময় তারা বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও নীতিগত দুর্বলতার কারণে দেশের পুঁজিবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বর্তমান কমিশনের নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় সংস্কার হলে বাজারকে আবারও শক্তিশালী ও বিনিয়োগবান্ধব অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মার্জিন ঋণ নীতিমালায় বৈষম্য দূর করার ওপর। সংগঠনটির মতে, বিভিন্ন শেয়ারের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মার্জিন সুবিধা না রেখে সব শেয়ারের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আগামী তিন মাসের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া এবং আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য ৮০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আইপিওতে সর্বোচ্চ আবেদনসীমা পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং পুনরায় লটারিভিত্তিক শেয়ার বরাদ্দ চালুরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তালিকাচ্যুতির (ডিলিস্টিং) ক্ষেত্রেও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, ডিএসইর ‘রেড জোনে’ থাকা কোনো কোম্পানিকে সরাসরি তালিকাচ্যুত না করে অন্তত দুই বছর পুনর্গঠনের সুযোগ দিতে হবে। এরপরও তালিকাচ্যুতির প্রয়োজন হলে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বাজারদর বা ইস্যু মূল্যের মধ্যে যেটি বেশি, সেই দামে কিনে নেওয়ার (বাইব্যাক) বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে।

সংগঠনটি আরও বলেছে, দেশের শেয়ারবাজারের প্রায় ৮০ শতাংশ লেনদেন সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে হওয়ায় বাজার-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতি প্রণয়নের আগে তাদের প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। এজন্য বছরে অন্তত চারবার বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় সভা আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি কারসাজি ও অস্বাভাবিক লেনদেন দ্রুত শনাক্ত করতে আধুনিক রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা চালুরও দাবি জানানো হয়েছে।

বাজারে তারল্য সংকট দূর করতে আইসিবির মাধ্যমে পরিচালিত ১০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছে ঐক্য পরিষদ। তাদের মতে, ৩ শতাংশ সুদে এই তহবিল গঠন করে ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে ৫ শতাংশ সুদে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঋণ দিলে বাজারে বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়বে এবং লেনদেনে ইতিবাচক গতি আসবে।

এ ছাড়া মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে আরও কার্যকর করতে প্রতিটি ফান্ডের কমপক্ষে ৮০ শতাংশ অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক করা, ক্লোজড-এন্ড ফান্ডকে ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তর, ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট-২০১৫-এর কার্যকর বাস্তবায়ন, তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য শেয়ার বাইব্যাক আইন প্রণয়ন, বর্তমান এ, বি, এন ও জেড ক্যাটাগরির পরিবর্তে আধুনিক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু এবং আন্তর্জাতিক মানের ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার সনদ চালুরও দাবি জানানো হয়েছে।

বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের মতে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বাজারে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে এবং একটি টেকসই, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব পুঁজিবাজার গড়ে তোলা সহজ হবে।